রান্নার সময় মাংস কেন সবুজ, ধন্ধে কর্মকর্তারাও

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
খুলনা

প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০২৬, ২২: ৫৮
রান্নার সময় গরুর মাংস সবুজ রং ধারণ করে। ছবি: সংগৃহীত

খুলনার পাইকগাছায় রান্না করার সময় গরুর মাংস সবুজ হওয়ায় আতঙ্কে কড়াই নিয়ে থানায় হাজির হয়েছেন স্থানীয়রা। পরে সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে ধন্ধে খোদ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারাও।

পাইকগাছা উপজেলা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (স্যানিটারি ইন্সপেক্টর) উদয় কুমার মণ্ডল জানান, খবর পেয়ে তাঁরা রান্না করা মাংসের নমুনা সংগ্রহ করেন। পরে মাংস বিক্রেতার দোকানের ফ্রিজে থাকা প্রায় ৬০০ গ্রাম কাঁচা মাংস জব্দ করেন। দুই ধরনের নমুনা খুলনার জেলা নিরাপদ খাদ্য কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

জানা যায়, পাইকগাছা পৌরসভার মর্ডান বেকারির কর্মচারীরা রান্নার সময় মাংসের রং সবুজ হয়ে যেতে দেখেন। এরপর তারা মাংসের কড়াই নিয়ে প্রথমে ইউএনও কার্যালয়ে, পরে তাঁর পরামর্শে থানায় যান।

থানার ওসি জুলফিকার আলী বলেন, বেকারির কর্মচারীরা রান্না করা মাংসের কড়াই নিয়ে থানায় আসেন। লিখিত অভিযোগ দিতে বললে, সবুজ হয়ে যাওয়া মাংস দেখিয়ে কড়াই নিয়ে তারা চলে যান।

বেকারির কর্মচারী বিল্লাল হোসেন বলেন, তাদের ২৫ কর্মচারী গত বুধবার (২২ জুলাই) কর্মস্থলে একসঙ্গে ভোজের আয়োজন করেন। সকালে কর্মচারী লিটন হোসেনসহ তিনজন পাইকগাছা বাজারের মাংস ব্যবসায়ী ইসমাইলের দোকানে যান। ইসমাইল তাদের জানান– আজকের সব মাংস বিক্রি হয়ে গেছে। তবে আগের দিনের কিছু মাংস ফ্রিজে আছে। তখন সেখান থেকে ৪ কেজি মাংস কেনেন তারা।

কর্মচারীদের ভাষ্যে, তেল-মসলা দিয়ে স্বাভাবিক নিয়মে রান্না শুরুর কিছুক্ষণ পরই মাংসের স্বাভাবিক লালচে রং বদলে নীলচে-সবুজ হতে থাকে। যতই নাড়াচাড়া করা হচ্ছিল, পরিবর্তিত রং ততই গাঢ় হচ্ছিল। বিষয়টি দেখে তারা চুলা থেকে কড়াই নামিয়ে অন্যদের ডাকেন। পরে রান্না করা মাংসসহ কড়াই নিয়ে মাংস বিক্রেতা কাছে যান। তিনিও এটি দেখে বিস্মিত হন। এরপর বেকারি কর্মচারীরা মাংস নিয়ে ইউএনও কার্যালয় এবং থানায় যান।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ খুলনা জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান জানান, বিষয়টি নিয়ে কারাও কিনারা করতে পারছেন না। তিনি বলেন, ‘এআই, গুগল করে কোথাও কোনো সমাধান খুঁজে পাইনি। নষ্ট মাংস রান্না করলেও তো সবুজ হবে না। রান্নার প্রক্রিয়ায় কোনো গণ্ডগোল থাকতে পারে বলে আমাদের ধারণা।’

মোখলেছুর রহমান আরও বলেন, ‘শুধু মাংসের রং বদলে গেছে। ঝোল কিন্তু সবুজ হয়নি। রান্নার পাতিলে তাদের আগে একটি বেকারির কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। বেকারিতে যে ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহৃত হয়, তার সংস্পর্শে এমন হয়েছে কিনা, পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে জানা যাবে।’

জানা যায়, গত ২১ জুলাই গরু জবাই করা হয়। ২২ জুলাই বেকারির কর্মচারীরা চার কেজি মাংস কেনেন। তারা ছাড়া স্থানীয় কয়েকজন ওই গরুর মাংস কিনেছেন। বাকি কারও ক্ষেত্রে এমন ঘটেনি।

মোখলেছুর রহমান জানান, বিক্রেতার কাছ থেকে সংগ্রহ করা মাংস রোববার ঢাকার ল্যাবে পাঠানো হবে। তবে নমুনা কোন ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হবে, সেটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের খুলনা জেলা কর্মকর্তা ওয়ালিদ বিন হাবিব বলেন, মাংস এভাবে সবুজ হওয়ার কোনো উদাহরণ নেই। নষ্ট মাংস রান্না করলেও সবুজ হবে না। এ রকম কোনো দৃষ্টান্ত আগে দেখাও যায়নি। আমার মনে হয়, বেকারির কোনো রং বা কেমিক্যাল রান্নার সময়ে মাংসের মধ্যে পড়তে পারে।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত