মানিকগঞ্জে শতবর্ষের রাস্তায় স্টিলের গেট, অবরুদ্ধ ১৫ পরিবার

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
মানিকগঞ্জ

প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০২৬, ২০: ০২
মানিকগঞ্জ সদরের কাকজিনগর এলাকায় শতবর্ষের রাস্তায় স্টিলের গেট নির্মাণ। স্ট্রিম ছবি
মানিকগঞ্জ সদরের কাকজিনগর এলাকায় শতবর্ষের রাস্তায় স্টিলের গেট নির্মাণ। স্ট্রিম ছবি

মানিকগঞ্জ সদরের কাকজিনগর এলাকার শতবর্ষের একটি রাস্তায় স্টিলের গেট নির্মাণ করে তালা লাগিয়েছেন স্থানীয় দুজন। এতে চলাচলে দুরবস্থায় পড়েছে ১৫ পরিবারের অর্ধশত মানুষ।

রাস্তার জায়গাটি পৈতৃক সম্পত্তি দাবি করে সম্প্রতি সেখানে গেট তৈরি করেন মোকতার খান ও তাঁর ভাই। তবে স্থানীয়রা বলছে, তাদের বাবার কাছে বিক্রির পর অবশিষ্ট অংশেই ওই রাস্তা তৈরি করা হয়েছিল।

রাস্তা বন্ধের বিষয়টি স্থানীয় দিঘি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানানো হলে কোনো সুরাহা হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলেন, প্রায় শতবর্ষ আগে কাকজিনগরের হালিমন বিবির ৭৪ শতাংশ জমির মধ্যে ৭০ শতাংশ কিনেছিলেন এলাকার দুই ভাই তোফাজ্জল হোসেন খান ও ইউসুফ খান। একই দাগে থাকা বাকি ৪ শতাংশ জমি পরবর্তীতে আরএস রেকর্ডে নিজেদের নামে অন্তর্ভুক্ত করে নেন তারা। সেই জায়গা দুই ভাই ভাগ করে নেন। তবে স্থানীয়দের দাবির মুখে তোফাজ্জল খান দুই শতাংশ জমির ওপর গ্রামবাসীর জন্য হাঁটার রাস্তা করে দেন। কিন্তু তাঁর ছেলে মোকতার খান ও তার ভাই সেই রাস্তা বন্ধ করে গেট নির্মাণ করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, সদর উপজেলার দিঘি ইউনিয়নের কাকজিনগর এলাকার শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীসহ সবাই মূল সড়কে যাতায়াতে এই কাঁচা পথটি বহু বছর ধরে ব্যবহার করছে। সম্প্রতি মোকতার খান রাস্তাটি বন্ধ করে দেওয়ায় জরুরি প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হতে পারছেন না তারা।

কাকজিনগর এলাকার সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধ আব্দুল রহমান বলেন, আমি ছোটবেলা থেকেই দুই বাড়ির মাঝ দিয়ে এই রাস্তা দেখে আসছি। এখন রাস্তাটি বন্ধ করে দেওয়ায় ১৫টি পরিবারের লোকজন এখন ঝোপঝাড়ের মধ্যদিয়ে চলাচল করছে।

ভুক্তভোগী আব্দুর রহিম বলেন, রাস্তাটি বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে মোকতার খানরা দীর্ঘদিন ধরে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও তারা কোনো তোয়াক্কা না করেননি। শেষ পর্যন্ত রাস্তাটি বন্ধ করে দিয়েছেন। এখন আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি।

মোকতার খান বলেন, পৈতৃক সম্পত্তির অংশ হিসেবে যা পেয়েছি, তার মধ্যেই ঘরবাড়ি তৈরি করেছি। এখন এখানে পায়ে হাঁটার রাস্তা দিলে আমাদের বসবাস করাটাই দুষ্কর হয়ে পড়বে।

মোকতারের ভাই আকতার খান বলেন, বাবা মারা যাওয়ার পর তিন ভাই সম্পত্তি বণ্টন করে নিয়েছি। এখন আমাদের সম্পত্তি কমে গেছে। যে যার মতো ঘরবাড়ি নির্মাণ করছেন। হাঁটার রাস্তাটি দিতে গেলে আমাদের জন্য ঘরবাড়ি তোলা অসম্ভব হয়ে যাবে।

মানিকগঞ্জ জজ কোর্টের আইনজীবী খন্দকার সুজন হোসেন বলেন, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, ২০ বছর বা তার বেশি সময় ধরে বিনাবাধায় কোনো রাস্তা জনসাধারণ ব্যবহার করলে সেখানে তাদের ব্যবহার অধিকার তৈরি হয়। মালিকানা যারই হোক, হঠাৎ করে শতবর্ষের পথ পৈতৃক সম্পত্তির অজুহাতে বন্ধ করে দেওয়া অপরাধ। ভুক্তভোগীরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি), সংশ্লিষ্ট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বা দেওয়ানি আদালতে মোকদ্দমা করে প্রতিকার পেতে পারে বলে তিনি জানান।

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মৌসুমী নাসরিন বলেন, আমি বিষয়টি জানি, উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। যেহেতু নিজেদের জমির ওপর দিয়ে রাস্তা দিতে চাচ্ছেন না, তাই ভেতরের পরিবারগুলোকে বিকল্প রাস্তা করার পরামর্শ দিয়েছি। তাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত