থানায় শরীরে আগুন ধরিয়ে যুবকের আত্মহত্যার চেষ্টা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
নারায়ণগঞ্জ

থানায় নিজের শরীরে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ রমজানকে আটক করে। ভিডিও থেকে নেওয়া ছবি
থানায় নিজের শরীরে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ রমজানকে আটক করে। ভিডিও থেকে নেওয়া ছবি

নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় নিজের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন রমজান (৪০) নামে এক ব্যক্তি। পুলিশের দাবি, মাদক ব্যবসার টাকা-পয়সা নিয়ে বিরোধের জেরে ক্ষোভ থেকে থানায় এসে এমন ঘটনা ঘটান তিনি। পরে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাঁকে আটক করে থানা হেফাজতে নেন।

বুধবার (১৫ জুলাই) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বন্দর থানার ভেতরে এ ঘটনা ঘটে।

রমজান একরামপুর এলাকার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি হাবিবুর রহমানের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে থানায় সাতটি মামলা রয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রমজান থানার ভেতরে এসে নিজের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হলে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা দ্রুত তাঁকে আটক করেন। পরে তাকে গোসল করিয়ে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়।

বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জামাল উদ্দিন স্ট্রিমকে বলেন, রমজানের সঙ্গে মাদক-সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধ চলছিল। মাদকের টাকা-পয়সা নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে রমজান পুলিশকে জানিয়েছেন।

ওসি বলেন, ‘রমজান আমাদের জানিয়েছে, তার সঙ্গে থাকা লোকজন তাঁকে হুমকি দিয়েছে। মূলত ক্ষোভ প্রকাশ করতেই সে থানায় এসেছে। পুলিশের সঙ্গে তার কোনো বিরোধ হয়নি। থানায় এসে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করলে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাঁকে আটক করেন।’
মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে রমজানের স্ত্রী স্ট্রিমকে বলেন, তার স্বামী মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কয়েক দিন আগে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মধ্যস্থতায় পুলিশ ও স্থানীয় ব্যক্তিদের সামনে মাদক বিক্রি না করার অঙ্গীকার করেন রমজান। কিন্তু পুরোনো মাদক বিক্রেতারা এখনো তার কাছ থেকে মাদক বিক্রির ভাগ দাবি করে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ করেন রমজানের স্ত্রী।

বুধবার সকালে একটি মাদক মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়ে ফেরার পথেও রমজানকে প্রতিপক্ষের লোকজন হুমকি দিয়েছে বলেও অভিযোগ করে তাঁর স্ত্রী বলেন, ‘আমার স্বামী এখন মাদক ব্যবসা বাদ দিলেও তাকে হুমকি দিতেছে। বলতেছে, এলাকায় থাকতে দিবে না। আমার স্বামী তাই জিদে কইছে, “আমি যে মাদক ব্যবসা ছাইড়া দিছি তা মানুষরে মইরা গিয়াই বিশ্বাস করামু।”’ তবে, কারা হুমকি দিচ্ছে তাদের নাম নিরাপত্তাজনিত শঙ্কা থেকে বলেননি ওই নারী।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত