রামেক হাসপাতালে শিশুদের মৃত্যুতে ‘দুঃখ প্রকাশ’ স্বাস্থ্য সচিবের, আরও দুজনের মৃত্যু

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাজশাহী

রামেক হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। স্ট্রিম ছবি

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) জন্য অপেক্ষায় থাকতে থাকতে শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ ) দুপুরে রামেক হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দুঃখ প্রকাশসহ কিছু সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেন।

হামে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘কোনো মৃত্যুই কারও জন্য কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা এটার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। এখানে আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল।’

এর আগে চলতি মার্চের ১১ থেকে ২২ তারিখের মধ্যে রামেক হাসপাতালে আইসিইউর অপেক্ষায় থাকা ৩৩ শিশু মারা যায়। এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ হলে তোলপাড় শুরু হয়। আজ মঙ্গলবার হাসপাতাল পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। সকালে তাঁরা হাসপাতালের সার্বিক বিষয় নিয়ে কর্মকর্তা ও চিকিৎসকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও আইসিইউ পরিদর্শন করেন তাঁরা।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে স্বাস্থ্য সচিব জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় ঢাকা থেকে সাতটি ভেন্টিলেটর এনেছেন তাঁরা। পাশাপাশি সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত নয়— এমন শিশুদের আইসিইউ প্রয়োজন হলে রাজশাহী হার্ট ফাউন্ডেশনে পাঠানোরও পরিকল্পনা করেছেন।

এ ছাড়া রাজশাহী শিশু হাসপাতাল, সদর হাসপাতাল ও বক্ষব্যাধি হাসপাতালসহ যেসব হাসপাতালের অবকাঠামো আছে, সেগুলো সচলের পরিকল্পনার কথাও জানান স্বাস্থ্য সচিব। তিনি বলেন, ‘তিন মাসের মধ্যে আংশিকভাবে রাজশাহী শিশু হাসপাতাল চালু করব। সেখানে প্রথমে আউটডোর সেবা শুরু হবে। আগামী অর্থবছরে অন্যান্য সেবাগুলোও চালু হবে।’

দ্রুতই শিশুদের হামসহ প্রয়োজনীয় টিকা প্রয়োগ শুরু হবে জানিয়ে কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘বিগত সময়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্দোলনের কারণে হামের টিকা পায়নি শিশুরা। মায়েরা যখন গেছেন টিকা দিতে, তখন হয়ত স্বাস্থ্যকর্মীদের পাননি। এ জন্য হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। ইতিমধ্যে টিকা কেনার জন্য ক্রয় কমিটি ৬০৪ কোটি টাকা অনুমোদন করেছে। আমরা টাকাও দিয়ে দিয়েছি।’

হামের উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু

এদিকে রামেক হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুর ২টা থেকে মঙ্গলবার দুপুর ২টার মধ্যে তারা মারা যায় বলে নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস।

দুপুরে মুখপাত্র জানান, হাসপাতালে বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৮ শিশু চিকিৎসাধীন আছে। তাদের মধ্যে ১৬ জন গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছে। এই রোগের উপসর্গ নিয়ে সব চেয়ে বেশি শিশু ভর্তি হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে। এ জেলার ৪৭ শিশু এখন রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ছাড়া রাজশাহীর ২৬, নওগাঁর ৪, কুষ্টিয়ার ১২, নাটোরের ৪, পাবনার ৪ ও মেহেরপুর একজন শিশু ভর্তি আছে হামের উপসর্গ নিয়ে।

ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস জানান, হামে আক্রান্ত শিশুদের ৫৫ শতাংশের বয়স ৬ মাসের নিচে। এটা উদ্বেগজনক। কারণ শিশুদের টিকা দেওয়া হয় ৯ মাস বয়সে। এ অবস্থায় ৬ মাসেই হামের টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

শংকর কুমার বলেন, ‘হাম যাতে ছড়িয়ে না পড়ে সে জন্য আমরা হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ড ও আইসোলেশন কর্নার চালু করেছি। হাম থেকে জটিলতা বাড়লে আইসিইউ লাগতে পারে। এ জন্য জনবলসহ যা যা প্রয়োজন তা পেতে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।’

সম্পর্কিত