যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রাখা চাই সতর্ক দৃষ্টি

প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০২৬, ২১: ৪৫
সম্পাদকীয় প্রতীকী ছবি। স্ট্রিম গ্রাফিক

বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানিতে নতুন করে যে শুল্ক আরোপ হয়েছে, তাতে পরিস্থিতি আগের মতোই থাকল। আগে যে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপিত ছিল, সেটাই অন্য ধারায় বহাল রেখেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ‘জোরপূর্বক শ্রমবিরোধী নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে ব্যর্থতা’র অভিযোগে ৬০টি দেশের ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে অন্য এক আইনে। দেশটির আদালত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বড় মাপের ‘পাল্টা শুল্ক’ আরোপের পদক্ষেপ বাতিলের পর তিনি অন্য পথে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপে গিয়েছিলেন। আর সেটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। তা অতিক্রান্ত হওয়ার পর আসলে নতুন করে শুল্কটি আরোপিত হলো।

এ অবস্থায় দেখতে হবে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিশেষত তৈরি পোশাক খাতে প্রতিযোগী দেশগুলোর ওপর কী হারে শুল্ক আরোপ হয়েছে। চীন, ভিয়েতনাম, ভারত, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকোর মতো দেশের ওপর আরোপিত শুল্ক বাংলাদেশের মতোই হলে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়ার কারণ নেই। এটাও দেখতে হবে, ইতোপূর্ব ওইসব দেশে কী হারে শুল্ক আরোপিত ছিল। তাতে পরিস্থিতি অনুকূলে রয়েছে বলেই মনে হয়। বাংলাদেশের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপিত হলেও কিন্তু কিছু বলার থাকতো না। অতিরিক্ত শুল্ক আরোপে ট্রাম্প প্রশাসনকে খামখেয়ালির পরিচয় দিতেও দেখা গেছে। এমন আচরণের শিকার হয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তার মিত্র দেশগুলোও। অভ্যন্তরীণ বাজার রক্ষায় ট্রাম্প সরকার খুবই আন্তরিক, এমন ধারণা দিতেই তারা সেটা করছেন। দেশটির সাধারণ ভোক্তারা এতে খুশি হবেন বলে অবশ্য মনে হয় না। অতিরিক্ত শুল্কে আমদানিকৃত পণ্যসামগ্রীর দাম বেড়ে গেলে তাদের ভোগ কমিয়ে দিতে হতে পারে। সেটা ঘটছে বলেই খবর পাওয়া যায়। এতে দেশটির বাজারে আমাদের মতো দেশগুলোর রপ্তানি হ্রাসের প্রবণতাও লক্ষণীয়। অবশ্য দেখতে হবে, সমান শুল্ক হারের মধ্যে কোন দেশের রপ্তানি বেশি কমছে। একই হারে শুল্ক আরোপিত থাকা সত্ত্বেও অন্য কোনো কারণে কারও রপ্তানি বাড়লে সেই যোগ্যতা অর্জনেও সচেষ্ট হতে হবে।

গত অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রপ্তানি আয় ৪ শতাংশ বাড়লেও চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ শতাংশ কমেছে বলে সম্প্রতি খবর মিলেছিল। তাতে শংকা জেগেছে, দেশটির বাজারে আমরা দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রাখতে পারব কিনা। সেখানে চীনের পোশাক রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে। এমন খবরও মিলছে, সেই হারানো বাজার বেশি হারে দখল করছে কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়া। সেখানে প্রথম অবস্থানে থাকা ভিয়েতনামের রপ্তানিও বছরের প্রথম পাঁচ মাসে কিছুটা বেড়েছে। একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের তৈরি পোশাকের প্রধান বাজার বলেই তাতে ব্যবসার এ গতি-প্রকৃতির দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা জরুরি।

অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা সংক্রান্ত আরও একটি অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন তদন্ত চালাচ্ছে বলে খবর রয়েছে। তাতে আরও কিছু বাড়তি শুল্ক আরোপের শংকার কথা জানাচ্ছেন পোশাক খাত সংশ্লিষ্টরা। সরকারকে এ বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে বলা হচ্ছে। অন্তর্বর্তী শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে আরোপিত বড় শুল্ক হার কমিয়ে আনা গিয়েছিল বলে আশা করা হচ্ছে, তাদের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন নয়। হালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলেও বাংলাদেশের প্রতি তাদের ইতিবাচক মনোভাব থাকার কথা। আমরা আশা করব, সরকার ও খাত সংশ্লিষ্টরা চেষ্টা করবেন বিদ্যমান সুবিধা বহাল রাখতে এবং এর সদ্ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ধারাটি অন্তত বজায় রাখতে।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত