স্ট্রিম সম্পাদকীয়

বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানিতে নতুন করে যে শুল্ক আরোপ হয়েছে, তাতে পরিস্থিতি আগের মতোই থাকল। আগে যে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপিত ছিল, সেটাই অন্য ধারায় বহাল রেখেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ‘জোরপূর্বক শ্রমবিরোধী নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে ব্যর্থতা’র অভিযোগে ৬০টি দেশের ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে অন্য এক আইনে। দেশটির আদালত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বড় মাপের ‘পাল্টা শুল্ক’ আরোপের পদক্ষেপ বাতিলের পর তিনি অন্য পথে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপে গিয়েছিলেন। আর সেটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। তা অতিক্রান্ত হওয়ার পর আসলে নতুন করে শুল্কটি আরোপিত হলো।
এ অবস্থায় দেখতে হবে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিশেষত তৈরি পোশাক খাতে প্রতিযোগী দেশগুলোর ওপর কী হারে শুল্ক আরোপ হয়েছে। চীন, ভিয়েতনাম, ভারত, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকোর মতো দেশের ওপর আরোপিত শুল্ক বাংলাদেশের মতোই হলে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়ার কারণ নেই। এটাও দেখতে হবে, ইতোপূর্ব ওইসব দেশে কী হারে শুল্ক আরোপিত ছিল। তাতে পরিস্থিতি অনুকূলে রয়েছে বলেই মনে হয়। বাংলাদেশের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপিত হলেও কিন্তু কিছু বলার থাকতো না। অতিরিক্ত শুল্ক আরোপে ট্রাম্প প্রশাসনকে খামখেয়ালির পরিচয় দিতেও দেখা গেছে। এমন আচরণের শিকার হয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তার মিত্র দেশগুলোও। অভ্যন্তরীণ বাজার রক্ষায় ট্রাম্প সরকার খুবই আন্তরিক, এমন ধারণা দিতেই তারা সেটা করছেন। দেশটির সাধারণ ভোক্তারা এতে খুশি হবেন বলে অবশ্য মনে হয় না। অতিরিক্ত শুল্কে আমদানিকৃত পণ্যসামগ্রীর দাম বেড়ে গেলে তাদের ভোগ কমিয়ে দিতে হতে পারে। সেটা ঘটছে বলেই খবর পাওয়া যায়। এতে দেশটির বাজারে আমাদের মতো দেশগুলোর রপ্তানি হ্রাসের প্রবণতাও লক্ষণীয়। অবশ্য দেখতে হবে, সমান শুল্ক হারের মধ্যে কোন দেশের রপ্তানি বেশি কমছে। একই হারে শুল্ক আরোপিত থাকা সত্ত্বেও অন্য কোনো কারণে কারও রপ্তানি বাড়লে সেই যোগ্যতা অর্জনেও সচেষ্ট হতে হবে।
গত অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রপ্তানি আয় ৪ শতাংশ বাড়লেও চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ শতাংশ কমেছে বলে সম্প্রতি খবর মিলেছিল। তাতে শংকা জেগেছে, দেশটির বাজারে আমরা দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রাখতে পারব কিনা। সেখানে চীনের পোশাক রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে। এমন খবরও মিলছে, সেই হারানো বাজার বেশি হারে দখল করছে কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়া। সেখানে প্রথম অবস্থানে থাকা ভিয়েতনামের রপ্তানিও বছরের প্রথম পাঁচ মাসে কিছুটা বেড়েছে। একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের তৈরি পোশাকের প্রধান বাজার বলেই তাতে ব্যবসার এ গতি-প্রকৃতির দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা জরুরি।
অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা সংক্রান্ত আরও একটি অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন তদন্ত চালাচ্ছে বলে খবর রয়েছে। তাতে আরও কিছু বাড়তি শুল্ক আরোপের শংকার কথা জানাচ্ছেন পোশাক খাত সংশ্লিষ্টরা। সরকারকে এ বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে বলা হচ্ছে। অন্তর্বর্তী শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে আরোপিত বড় শুল্ক হার কমিয়ে আনা গিয়েছিল বলে আশা করা হচ্ছে, তাদের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন নয়। হালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলেও বাংলাদেশের প্রতি তাদের ইতিবাচক মনোভাব থাকার কথা। আমরা আশা করব, সরকার ও খাত সংশ্লিষ্টরা চেষ্টা করবেন বিদ্যমান সুবিধা বহাল রাখতে এবং এর সদ্ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ধারাটি অন্তত বজায় রাখতে।

বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানিতে নতুন করে যে শুল্ক আরোপ হয়েছে, তাতে পরিস্থিতি আগের মতোই থাকল। আগে যে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপিত ছিল, সেটাই অন্য ধারায় বহাল রেখেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ‘জোরপূর্বক শ্রমবিরোধী নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে ব্যর্থতা’র অভিযোগে ৬০টি দেশের ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে অন্য এক আইনে। দেশটির আদালত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বড় মাপের ‘পাল্টা শুল্ক’ আরোপের পদক্ষেপ বাতিলের পর তিনি অন্য পথে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপে গিয়েছিলেন। আর সেটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। তা অতিক্রান্ত হওয়ার পর আসলে নতুন করে শুল্কটি আরোপিত হলো।
এ অবস্থায় দেখতে হবে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিশেষত তৈরি পোশাক খাতে প্রতিযোগী দেশগুলোর ওপর কী হারে শুল্ক আরোপ হয়েছে। চীন, ভিয়েতনাম, ভারত, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকোর মতো দেশের ওপর আরোপিত শুল্ক বাংলাদেশের মতোই হলে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়ার কারণ নেই। এটাও দেখতে হবে, ইতোপূর্ব ওইসব দেশে কী হারে শুল্ক আরোপিত ছিল। তাতে পরিস্থিতি অনুকূলে রয়েছে বলেই মনে হয়। বাংলাদেশের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপিত হলেও কিন্তু কিছু বলার থাকতো না। অতিরিক্ত শুল্ক আরোপে ট্রাম্প প্রশাসনকে খামখেয়ালির পরিচয় দিতেও দেখা গেছে। এমন আচরণের শিকার হয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তার মিত্র দেশগুলোও। অভ্যন্তরীণ বাজার রক্ষায় ট্রাম্প সরকার খুবই আন্তরিক, এমন ধারণা দিতেই তারা সেটা করছেন। দেশটির সাধারণ ভোক্তারা এতে খুশি হবেন বলে অবশ্য মনে হয় না। অতিরিক্ত শুল্কে আমদানিকৃত পণ্যসামগ্রীর দাম বেড়ে গেলে তাদের ভোগ কমিয়ে দিতে হতে পারে। সেটা ঘটছে বলেই খবর পাওয়া যায়। এতে দেশটির বাজারে আমাদের মতো দেশগুলোর রপ্তানি হ্রাসের প্রবণতাও লক্ষণীয়। অবশ্য দেখতে হবে, সমান শুল্ক হারের মধ্যে কোন দেশের রপ্তানি বেশি কমছে। একই হারে শুল্ক আরোপিত থাকা সত্ত্বেও অন্য কোনো কারণে কারও রপ্তানি বাড়লে সেই যোগ্যতা অর্জনেও সচেষ্ট হতে হবে।
গত অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রপ্তানি আয় ৪ শতাংশ বাড়লেও চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ শতাংশ কমেছে বলে সম্প্রতি খবর মিলেছিল। তাতে শংকা জেগেছে, দেশটির বাজারে আমরা দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রাখতে পারব কিনা। সেখানে চীনের পোশাক রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে। এমন খবরও মিলছে, সেই হারানো বাজার বেশি হারে দখল করছে কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়া। সেখানে প্রথম অবস্থানে থাকা ভিয়েতনামের রপ্তানিও বছরের প্রথম পাঁচ মাসে কিছুটা বেড়েছে। একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের তৈরি পোশাকের প্রধান বাজার বলেই তাতে ব্যবসার এ গতি-প্রকৃতির দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা জরুরি।
অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা সংক্রান্ত আরও একটি অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন তদন্ত চালাচ্ছে বলে খবর রয়েছে। তাতে আরও কিছু বাড়তি শুল্ক আরোপের শংকার কথা জানাচ্ছেন পোশাক খাত সংশ্লিষ্টরা। সরকারকে এ বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে বলা হচ্ছে। অন্তর্বর্তী শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে আরোপিত বড় শুল্ক হার কমিয়ে আনা গিয়েছিল বলে আশা করা হচ্ছে, তাদের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন নয়। হালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলেও বাংলাদেশের প্রতি তাদের ইতিবাচক মনোভাব থাকার কথা। আমরা আশা করব, সরকার ও খাত সংশ্লিষ্টরা চেষ্টা করবেন বিদ্যমান সুবিধা বহাল রাখতে এবং এর সদ্ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ধারাটি অন্তত বজায় রাখতে।
.png)

রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতার প্রকৃত তাৎপর্য কেবল সংবিধানের বিধান বিশ্লেষণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে রাষ্ট্রপতিদের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক ভূমিকা এবং ক্ষমতা থেকে বিদায়ের প্রেক্ষাপটেও এর সুস্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যায়।
২৫ মিনিট আগে
ভারত সরকারকে জবাবদিহি করতে হবে এবং শিক্ষার সংস্কার করতে হবে। নরেন্দ্র মোদি সরকার তাদের এই সাহসিকতার জবাব দিয়েছে কাপুরুষতা ও নির্বিচার নিষ্ঠুরতা দিয়ে। সরকার এই শিক্ষার্থীদের দেশের ভবিষ্যতের উত্তরাধিকারী হিসেবে দেখেনি, দেখেছে রাষ্ট্রের শত্রু হিসেবে।
৬ ঘণ্টা আগে
ভারতের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে প্রথাগত দলভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, জাতিগত সমীকরণ, ধর্মীয় বিভাজন এবং নির্বাচনী পপুলিজমের বৃত্তে আবর্তিত হয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি ভারতীয় রাজনীতির এই ব্যাকরণকে তীব্রভাবে নাড়া দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলন।
৬ ঘণ্টা আগে
নেতৃত্বকে জানতে হবে কীভাবে কাজ আদায় করে নিতে হয়। গৃহকর্ত্রীকে যেমন জানতে হয় গৃহকর্মীর কাছ থেকে কীভাবে কাজ আদায় করতে হবে, ঠিক তেমনি সরকারের নীতিনির্ধারকদেরও জানতে হবে আমলাদের দিয়ে কীভাবে নীতি বাস্তবায়ন করতে হয়। সরকারে যদি দলীয়, অযোগ্য বা অপদার্থ লোক বসানো হয়, তারা কোনো ইতিবাচক অবদান রাখতে পারবে না।
১১ ঘণ্টা আগে