
দেশে গ্যাস পরিস্থিতি কতটা খারাপ, সেটা নতুন করে বলার কিছু নেই। এ খাতে আমরা ক্রমে আরও আমদানিনির্ভর হচ্ছি। বাড়ছে এলএনজি-নির্ভরতা। ইরান যুদ্ধে জ্বালানি খাত অস্থির হওয়ায় এলএনজির দামও অনেক বেড়ে যায়। জ্বালানি খাতে ভর্তুকি ব্যয় বাড়ার এটা অন্যতম কারণ। মাঝে গ্যাসের অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেড়ে গিয়েছিল কয়লার ব্যবহার। কিন্তু বাসাবাড়িসহ শিল্পে রয়েই গেছে গ্যাসের চাহিদা। কোনো কোনো শিল্পে লাগে নির্দিষ্ট চাপে গ্যাস। সে ক্ষেত্রে সরবরাহ থাকলেই চলে না; গ্যাসের মানসম্মত সরবরাহও জরুরি।
সরকার বাসাবাড়িতে নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ রাখলেও যাদের এটা আছে, তারাও চাহিদামতো গ্যাস পাচ্ছেন না। খোদ রাজধানীর অনেক এলাকায় কেবল স্বল্প চাহিদার সময় গ্যাস মিলছে বলে রান্না সারতে হচ্ছে অসময়ে। এসব ক্ষেত্রে বেড়েছে এলপিজির চাহিদা। ইরান যুদ্ধে এলপিজির দামও অনেক বেড়ে গিয়েছিল। তখন গ্রামের এলপিজি ব্যবহারকারীদের একাংশ চলে যায় লাকড়িতে। এর দামও কম নয় আর ব্যবহার অসুবিধাজনক। হালে এলপিজির দাম কমে এলেও ওই দামে প্রাপ্যতা কতটা নিশ্চিত হচ্ছে, কে জানে।
গ্যাস সমস্যা তীব্র শিল্প-কারখানায়। বিদ্যুৎ সংকটে নিজেদের প্লান্টে সেটা উৎপাদনের জন্যও উদ্যোক্তারা চান গ্যাসের মানসম্মত সরবরাহ। আওয়ামী সরকারের আমলে বড় দাম বৃদ্ধিও তারা মেনে নিয়েছিলেন গ্যাসের ‘নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ’ জোগানো হবে বলে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে আরেক দফা গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়, বিশেষত এর বাড়তি ব্যবহার ও নতুন শিল্পে। এ ক্ষেত্রে অন্যায্যতার প্রশ্নটিও চাপা পড়ে গেছে শিল্প-কারখানায় পর্যাপ্ত গ্যাস মিলছে না বলে। একাধিক বিজনেস গ্রুপের নতুন কারখানা গ্যাস সংযোগ না পাওয়ায় তাদের ব্যাংকঋণ আটকে পড়াটাও বড় খবর হয়েছে। অন্যান্য সীমাবদ্ধতাও আছে নিশ্চয়; তবে গ্যাস সংকট ভোগাচ্ছে তাদের। গ্যাস সংকটে কারখানা বন্ধের খবরও পাওয়া যায়। অনেক প্রতিষ্ঠান পূর্ণ উৎপাদন ক্ষমতায় পরিচালিত হতে পারছে না। এতে কাজের সুযোগ তো সৃষ্টি হচ্ছেই না; বরং ঘটছে কর্মচ্যুতি।
ঋণের সুদের হার চড়া থাকা সত্ত্বেও নির্বাচিত সরকারের সময়ে যেটুকু বিনিয়োগ বাড়ার প্রত্যাশা ছিল, সেটাও মার খাচ্ছে মূলত গ্যাস সংকটে। বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি অর্থনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ সূচক। হালে এটা পাঁচ শতাংশের নিচে চলে যাওয়ায় সরকারের নীতিনির্ধারকরাও চিন্তিত নিশ্চয়। অথচ কর্মসংস্থান বাড়ানোর কথা তারা জোর দিয়ে বলছিলেন। এখন বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত বলেও দেশে কাজের চাহিদা বেড়েছে। সরকার চাইছে এমনকি বিশেষ সুবিধায় বন্ধ কলকারখানা চালু করে কাজের সুযোগ বাড়াতে। কিন্তু সেটাও কঠিন বিদ্যমান গ্যাস পরিস্থিতিতে।
এদিকে, ভোলার তিনটি ক্ষেত্রে প্রাপ্ত গ্যাস কাজে লাগানো যাচ্ছে না সেটা জায়গামতো এনে ব্যবহারের কাজে সীমাবদ্ধতা থাকায়। ভোলার গ্যাস ঢাকার শিল্পাঞ্চলের পাশাপাশি খুলনায় নিয়ে যেতে পাইপলাইন নির্মাণ বিষয়ে কথাবার্তা হলেও কাজটি সহজ নয়। এ অবস্থায় কূপ খনন ও সংস্কার আর নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান চলমান রাখার পাশাপাশি চাহিদামতো এর সরবরাহ অন্তত ধরে রাখতে হবে। এ মুহূর্তে এলএনজি আমদানি বাড়ানোর বিকল্প দেখা যাচ্ছে না। মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এর বাজারও কমবেশি অশান্ত থাকবে। তা সত্ত্বেও দেশের বৃহত্তর স্বার্থে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে যা কিছু প্রয়োজন, সেটা করতে হবে। ইউরিয়া সার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতেও গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। এর সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে খাদ্য নিরাপত্তার।
.png)

স্বাস্থ্য খাতে জনবল সংকট দীর্ঘদিনের। সংকট কাটাতে আগামী তিন মাসের মধ্যে ৪২ হাজার ৩৯০ জনবল নিয়োগের ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে প্রতি ১১ থেকে ১২ হাজার মানুষের বিপরীতে এখন একজন চিকিৎসক বা নার্সকে সেবা দিতে হয়।
১৭ ঘণ্টা আগে
কিছুদিন পরপর খেলাপি ঋণের যে পরিস্থিতি সামনে আসছে, তাতে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে আরও। পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সক্রিয়তা নেই, তা নয়। তবে ‘উদার’ নীতি সহায়তায়ও খেলাপি ঋণ পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। নতুন ধারায় পরিস্থিতি মোকাবিলা প্রয়োজন বলেও মনে হচ্ছে।
০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আটা-ময়দা ও চিনির দাম বাড়ার খবরের পাশাপাশি বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহে ঘাটতির কথা জানা যাচ্ছিল। তাতে আশঙ্কা করা হচ্ছিল এর দাম আনুষ্ঠানিকভাবে বাড়ার। দাম বৃদ্ধির এ প্রক্রিয়া দেখতে দেখতে ক্রেতারা অভ্যস্ত। তারা অবশেষে খবর পেলেন বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়ানোর। উৎপাদকরা নাকি আরও বেশি দাম
০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সরকারি কর্মচারি ও পেনশনারদের জন্য নতুন পে-স্কেলের বাস্তবায়ন শুরু করে দীর্ঘ অচলাবস্থার অবসান ঘটাল সরকার। ২০১৫ সালের পর থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট কাঠামোয় তাদের বেতন বাড়েনি; যদিও গত চার বছর ধরে উচ্চমাত্রার মূল্যস্ফীতি চলমান। বেসরকারি খাতের কয়েকগুণ বেশি মানুষকেও একই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬