আজ ৪ আগষ্ট। ভারতের জনপ্রিয় গায়ক কিশোর কুমারের জন্মদিন। মৃত্যুর পরেও একজন সফল অভিনেতা, গায়ক, প্রযোজক, গীতিকার ও সংগীত পরিচালক হিসেবে তিনি ভক্তদের হৃদয়ে আজও গেঁথে আছেন। কিন্তু তিনি নিজের জীবনে লড়েছেন নানা কষ্টের সঙ্গে। এই লেখায় জানা যাবে এক অচেনা কিশোর কুমারকে।
মাহমুদ নেওয়াজ জয়

১৯৫০ সাল। মাত্র ২১ বছর বয়স তখন কিশোর কুমারের। বছর চারেক আগেই আভাস কুমার গাঙ্গুলী নাম পাল্টে হয়েছেন ‘কিশোর কুমার’। গায়ক হিসেবে তেমন পরিচিত নন তখনও। তাঁর দাদা অশোক কুমার সে সময় হিন্দি সিনেমার আইকনিক অভিনেতা। অশোকের ছোট ভাই হিসেবেই মানুষ তাঁকে চেনে।
সে বছরেই কিশোরের জন্য বিয়ের প্রস্তাব এল। দাদা অশোক কুমারই নিজেই সেই প্রস্তাব নিয়ে এলেন। পাত্রীর নাম রুমা গুহ। বয়স মাত্র ১৬ বছর। প্রগতিশীল শিক্ষিত পরিবারের মেয়ে রুমা তখন কলকাতা ইয়ুথ কয়ারের শিল্পী।
বিয়ে হয়ে গেল রুমা আর কিশোরের। ১৯৫২ সালে জন্ম নিল তাঁদের সন্তান অমিত কুমার। কিশোর তখন তেইশ, রুমা আঠারো। বিয়ের পর রুমার পড়ালেখা-গান সব বন্ধ। কারণ, কিশোর কখনোই মায়ের কথার অবাধ্য হতে পারেনি। তাঁর মা গাঙ্গুলী বাড়ির সংস্কার রক্ষায় ছিলেন খুব কঠোর ও বদ্ধপরিকর। তাই স্ত্রীর লেখাপড়া বা গান—কোনোটাতেই সমর্থন দেননি।
এভাবে কেটে যাচ্ছিল সময়। মাতৃভক্ত কিশোর মাকে ছেড়ে রুমাকে নিয়ে আলাদা থাকার কথা ভাবতেও পারেননি। আবার, রুমাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে প্রয়োজনীয় সমর্থনও দিতে পারেননি। তিনি আশা করছিলেন, রুমা মানিয়ে নিতে পারবে। তবে শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি।

১৯৫৮ সালে রুমা সিদ্ধান্ত নেন বিবাহবিচ্ছেদের। অমিত কুমার যাতে মায়ের সঙ্গে থাকতে পারেন, সেদিকটা অবশ্য দেখেছিলেন কিশোর। নিজেদের দাম্পত্য সম্পর্কের দূরত্ব ও বিচ্ছেদের প্রভাব অমিতের ওপর পড়তে দেননি। কিশোর তখন মানসিকভাবে অনেক ভেঙে পড়েন। সে বছর ‘লুকোচুরি’ (১৯৫৮) সিনেমায় রুমার সঙ্গে গাওয়া ডুয়েট ‘এই তো হেথায় কুঞ্জছায়ায়’ কালজয়ী প্রেমের গান হিসেবে আজও টিকে আছে।
বিচ্ছেদের পর কিশোর কুমারের পরিচয় হয় মধুবালার সঙ্গে। এই ঘটনাও এগিয়েছিল মধুবালা আর দিলীপ কুমারের সম্পর্কের বিচ্ছেদের পর। দিলীপ কুমার মধুবালাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিতে চাইলেও মধুবালার পিতার অনড় মনোভাব ও পারিবারিক পিছুটান মধুবালাকে আর এগোতে দেয়নি।
‘মুঘল ই আজম’ সিনেমার অবিস্মরণীয় সাফল্যের পর মধুবালা তখন একা। কিশোর কুমারের সঙ্গে তিনি বিভিন্ন সিনেমায় কাজ করতে শুরু করেন। শুরু হয় মন দেওয়া-নেওয়া। ১৯৬১ সালে তাঁরা বিয়ে করেন। মধুবালার হৃদপিন্ডে ছোটবেলা থেকেই একটা ছিদ্র ছিল। সেজন্য লন্ডনে নিয়ে গিয়ে তাঁর চিকিৎসার উদ্যোগও নেন কিশোর। তবে মধুবালার রোগটি ছিল নিরাময় অযোগ্য।
অবশ্য মধুবালার সঙ্গে বিয়েতেও কিশোরের রক্ষ্মণশীল পরিবারের রীতি-নীতি বাধা হয়ে দাঁড়ায়। মুসলমান মধুবালাকে কিশোর বিয়ে করেছিলেন মুসলিমরীতিতে। এটা কিশোরের পরিবার মেনে নেয়নি। কিশোর প্রথমদিকে মধুবালাকে নিয়ে নিজেদের পারিবারিক বাড়িতেই থাকতেন। অন্যদিকে অমিতের প্রতি মধুবালার মাতৃসুলভ আচরণ কিশোরকে মুগ্ধ করেছিল। তবে কিশোরের পরিবার মধুবালাকে মেনে নিতে পারেনি। এরকম টানাপোড়েনের ভেতরই মধুবালা শেষ পর্যন্ত কিশোরের বাড়ি ছেড়ে বোনের বাড়িতে গিয়ে ওঠেন।
এরপর শুরু হয় কিশোরের অদ্ভুত এক জীবন। প্রতিদিন বিকেলে মধুবালার সঙ্গে দেখা করতে যেতেন। রাতে আবার নিজের বাড়িতে ফিরে আসতেন। একসময় আর এভাবে চালিয়ে নিতে পারলেন না। যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেল। এদিকে মধুবালার শারীরিক অবস্থারও দিন দিন অবনতি হচ্ছিল। সবমিলিয়ে কিশোরও তখন সংগীত নিয়ে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলেন। সুধীন দাশগুপ্ত তাঁকে দিয়ে ‘আমি তার ঠিকানা রাখিনি’ গাওয়াতে চাইলেন। কিশোর কুমার গাইলেন না। প্লেব্যাক করতেন খুব কম। শুধু দেব আনন্দের সিনেমায় তাঁর গান শোনা যেত।

তবে কিশোরের খারাপ দশা অচিরেই কেটে গেল। একদিন রাহুল দেব বর্মন ঠিক করলেন, কিশোর কুমারকে দিয়ে বাংলা গান রেকর্ড করাবেন, তাও আবার পূজার গান। কিশোর গাইলেন ‘একদিন পাখি উড়ে যাবে যে আকাশে’। আশ্চর্যজনকভাবে সেই রেকর্ড সলিল চৌধুরী, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়দের মতো শিল্পীদের গানের চেয়েও বেশি জনপ্রিয় হয়ে গেল!
মধুবালার সঙ্গে কিশোর তখন একেবারে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন। ১৯৬৯ সালে মধুবালা মারা গেলেন। কিশোর প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছিলেন। কিশোরের জীবন তখন এলোমেলো। রাতের পর রাত জেগে থাকেন। পুরোপুরি নিঃসঙ্গ, একা। এ সময়ই মুক্তি পেল ‘আরাধনা’ (১৯৬৯)। এই এক ছবির সাফল্যে কিশোর কুমার তকমা পেলেন শীর্ষ প্লেব্যাক গায়কের।
এরপর কিশোরের দিন কাটতে থাকে ব্যস্ততায়। সংগীতই হয়ে ওঠে তাঁর সংসার। তবে ব্যক্তিগত জীবনে শূণ্যতাও ছিল। ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার সময় তাঁর জীবনে নেমে এল আরেক সংকট। কংগ্রেসের ‘টাইটেল গান’ গাইতে রাজি না হওয়ায় সঞ্জয় গান্ধীর নির্দেশে রাষ্ট্রীয় সব মাধ্যম থেকে নিষিদ্ধ হলেন তিনি। তাঁর বাড়িতে আয়কর বিভাগের লোক পাঠিয়ে হয়রানিও করা হয়েছিল।
সেই অবস্থায় অল্প কিছু মানুষ ছাড়া প্রায় কেউই কিশোর কুমারকে সমর্থন করেননি। ১৯৭৭ সালের ভারতের জাতীয় নির্বাচনে কংগ্রেস হেরে যায়। ক্যারিয়ার নিয়ে কিশোরের সংশয় তখন কেটে যায়। বাংলা সিনেমাতেও নিয়মিত প্লেব্যাক করতে শুরু করেন। সেই বছরই বিয়ে করেন যোগীতা বালিকে। তবে সেই সংসারের স্থায়ীত্ব ছিল মাত্র কয়েক মাস। এরপর কিশোর আবারও একা হয়ে গেলেন।

বছর তিনেক পর ১৯৮০ সালে কিশোর কুমার চতুর্থবারের মতো বিয়ে করেন। পাত্রীর নাম লীনা চন্দ্রভারকার। তাঁদের সংসার টিকে ছিল কিশোরের মৃত্যু পর্যন্ত। শোনা যায়, লীনাকে বিয়ে করে সুখী হয়েছিলেন কিশোর। ১৯৮১ সালে এই সংসারে কিশোরের দ্বিতীয় সন্তান সুমিত কুমারের জন্ম হয়।
কিশোর কুমারের ক্যারিয়ার তখন তুঙ্গে। কিন্তু বোম্বের (মুম্বাই) জীবন আর আগের মতো ভালো লাগছিল না তাঁর। তাই ১৯৮৫ সালে মধ্যপ্রদেশের খান্দোয়ায় নিজের পৈতৃক বাড়িতে চলে যান। সেখান থেকেই তিনি গান গেয়ে যাচ্ছিলেন।
মুম্বাই ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে খুব বেশি দিন তিনি থাকতে পারলেন না। ১৯৮৭ সালের ১৩ অক্টোবর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন। ১৯২৯ সালের ৪ আগস্ট জন্ম নেওয়া কিশোর আজ বেঁচে থাকলে ৯৭ বছরে পা রাখতেন।
জাদুকরী কণ্ঠে অগণিত শ্রোতার হৃদয় রাঙিয়েছেন কিশোর। কিন্তু তাঁর জীবন ছিল ঠিক তাঁর গানগুলোর মতোই—কখনো উচ্ছ্বসিত, কখনো উদাস, আবার কখনো তীব্র আবেগে ভরা। ব্যক্তিগত জীবনে যতটা অস্থিরতা ছিল, সংগীত জীবনে তিনি ছিলেন ততটাই স্থির ও নিবেদিত। সময়ের পরীক্ষায় বারবার ভেঙে পড়েও তিনি আবার উঠে দাঁড়ানোর দৃঢ়তা দেখিয়েছিলেন।

১৯৫০ সাল। মাত্র ২১ বছর বয়স তখন কিশোর কুমারের। বছর চারেক আগেই আভাস কুমার গাঙ্গুলী নাম পাল্টে হয়েছেন ‘কিশোর কুমার’। গায়ক হিসেবে তেমন পরিচিত নন তখনও। তাঁর দাদা অশোক কুমার সে সময় হিন্দি সিনেমার আইকনিক অভিনেতা। অশোকের ছোট ভাই হিসেবেই মানুষ তাঁকে চেনে।
সে বছরেই কিশোরের জন্য বিয়ের প্রস্তাব এল। দাদা অশোক কুমারই নিজেই সেই প্রস্তাব নিয়ে এলেন। পাত্রীর নাম রুমা গুহ। বয়স মাত্র ১৬ বছর। প্রগতিশীল শিক্ষিত পরিবারের মেয়ে রুমা তখন কলকাতা ইয়ুথ কয়ারের শিল্পী।
বিয়ে হয়ে গেল রুমা আর কিশোরের। ১৯৫২ সালে জন্ম নিল তাঁদের সন্তান অমিত কুমার। কিশোর তখন তেইশ, রুমা আঠারো। বিয়ের পর রুমার পড়ালেখা-গান সব বন্ধ। কারণ, কিশোর কখনোই মায়ের কথার অবাধ্য হতে পারেনি। তাঁর মা গাঙ্গুলী বাড়ির সংস্কার রক্ষায় ছিলেন খুব কঠোর ও বদ্ধপরিকর। তাই স্ত্রীর লেখাপড়া বা গান—কোনোটাতেই সমর্থন দেননি।
এভাবে কেটে যাচ্ছিল সময়। মাতৃভক্ত কিশোর মাকে ছেড়ে রুমাকে নিয়ে আলাদা থাকার কথা ভাবতেও পারেননি। আবার, রুমাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে প্রয়োজনীয় সমর্থনও দিতে পারেননি। তিনি আশা করছিলেন, রুমা মানিয়ে নিতে পারবে। তবে শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি।

১৯৫৮ সালে রুমা সিদ্ধান্ত নেন বিবাহবিচ্ছেদের। অমিত কুমার যাতে মায়ের সঙ্গে থাকতে পারেন, সেদিকটা অবশ্য দেখেছিলেন কিশোর। নিজেদের দাম্পত্য সম্পর্কের দূরত্ব ও বিচ্ছেদের প্রভাব অমিতের ওপর পড়তে দেননি। কিশোর তখন মানসিকভাবে অনেক ভেঙে পড়েন। সে বছর ‘লুকোচুরি’ (১৯৫৮) সিনেমায় রুমার সঙ্গে গাওয়া ডুয়েট ‘এই তো হেথায় কুঞ্জছায়ায়’ কালজয়ী প্রেমের গান হিসেবে আজও টিকে আছে।
বিচ্ছেদের পর কিশোর কুমারের পরিচয় হয় মধুবালার সঙ্গে। এই ঘটনাও এগিয়েছিল মধুবালা আর দিলীপ কুমারের সম্পর্কের বিচ্ছেদের পর। দিলীপ কুমার মধুবালাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিতে চাইলেও মধুবালার পিতার অনড় মনোভাব ও পারিবারিক পিছুটান মধুবালাকে আর এগোতে দেয়নি।
‘মুঘল ই আজম’ সিনেমার অবিস্মরণীয় সাফল্যের পর মধুবালা তখন একা। কিশোর কুমারের সঙ্গে তিনি বিভিন্ন সিনেমায় কাজ করতে শুরু করেন। শুরু হয় মন দেওয়া-নেওয়া। ১৯৬১ সালে তাঁরা বিয়ে করেন। মধুবালার হৃদপিন্ডে ছোটবেলা থেকেই একটা ছিদ্র ছিল। সেজন্য লন্ডনে নিয়ে গিয়ে তাঁর চিকিৎসার উদ্যোগও নেন কিশোর। তবে মধুবালার রোগটি ছিল নিরাময় অযোগ্য।
অবশ্য মধুবালার সঙ্গে বিয়েতেও কিশোরের রক্ষ্মণশীল পরিবারের রীতি-নীতি বাধা হয়ে দাঁড়ায়। মুসলমান মধুবালাকে কিশোর বিয়ে করেছিলেন মুসলিমরীতিতে। এটা কিশোরের পরিবার মেনে নেয়নি। কিশোর প্রথমদিকে মধুবালাকে নিয়ে নিজেদের পারিবারিক বাড়িতেই থাকতেন। অন্যদিকে অমিতের প্রতি মধুবালার মাতৃসুলভ আচরণ কিশোরকে মুগ্ধ করেছিল। তবে কিশোরের পরিবার মধুবালাকে মেনে নিতে পারেনি। এরকম টানাপোড়েনের ভেতরই মধুবালা শেষ পর্যন্ত কিশোরের বাড়ি ছেড়ে বোনের বাড়িতে গিয়ে ওঠেন।
এরপর শুরু হয় কিশোরের অদ্ভুত এক জীবন। প্রতিদিন বিকেলে মধুবালার সঙ্গে দেখা করতে যেতেন। রাতে আবার নিজের বাড়িতে ফিরে আসতেন। একসময় আর এভাবে চালিয়ে নিতে পারলেন না। যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেল। এদিকে মধুবালার শারীরিক অবস্থারও দিন দিন অবনতি হচ্ছিল। সবমিলিয়ে কিশোরও তখন সংগীত নিয়ে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলেন। সুধীন দাশগুপ্ত তাঁকে দিয়ে ‘আমি তার ঠিকানা রাখিনি’ গাওয়াতে চাইলেন। কিশোর কুমার গাইলেন না। প্লেব্যাক করতেন খুব কম। শুধু দেব আনন্দের সিনেমায় তাঁর গান শোনা যেত।

তবে কিশোরের খারাপ দশা অচিরেই কেটে গেল। একদিন রাহুল দেব বর্মন ঠিক করলেন, কিশোর কুমারকে দিয়ে বাংলা গান রেকর্ড করাবেন, তাও আবার পূজার গান। কিশোর গাইলেন ‘একদিন পাখি উড়ে যাবে যে আকাশে’। আশ্চর্যজনকভাবে সেই রেকর্ড সলিল চৌধুরী, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়দের মতো শিল্পীদের গানের চেয়েও বেশি জনপ্রিয় হয়ে গেল!
মধুবালার সঙ্গে কিশোর তখন একেবারে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন। ১৯৬৯ সালে মধুবালা মারা গেলেন। কিশোর প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছিলেন। কিশোরের জীবন তখন এলোমেলো। রাতের পর রাত জেগে থাকেন। পুরোপুরি নিঃসঙ্গ, একা। এ সময়ই মুক্তি পেল ‘আরাধনা’ (১৯৬৯)। এই এক ছবির সাফল্যে কিশোর কুমার তকমা পেলেন শীর্ষ প্লেব্যাক গায়কের।
এরপর কিশোরের দিন কাটতে থাকে ব্যস্ততায়। সংগীতই হয়ে ওঠে তাঁর সংসার। তবে ব্যক্তিগত জীবনে শূণ্যতাও ছিল। ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার সময় তাঁর জীবনে নেমে এল আরেক সংকট। কংগ্রেসের ‘টাইটেল গান’ গাইতে রাজি না হওয়ায় সঞ্জয় গান্ধীর নির্দেশে রাষ্ট্রীয় সব মাধ্যম থেকে নিষিদ্ধ হলেন তিনি। তাঁর বাড়িতে আয়কর বিভাগের লোক পাঠিয়ে হয়রানিও করা হয়েছিল।
সেই অবস্থায় অল্প কিছু মানুষ ছাড়া প্রায় কেউই কিশোর কুমারকে সমর্থন করেননি। ১৯৭৭ সালের ভারতের জাতীয় নির্বাচনে কংগ্রেস হেরে যায়। ক্যারিয়ার নিয়ে কিশোরের সংশয় তখন কেটে যায়। বাংলা সিনেমাতেও নিয়মিত প্লেব্যাক করতে শুরু করেন। সেই বছরই বিয়ে করেন যোগীতা বালিকে। তবে সেই সংসারের স্থায়ীত্ব ছিল মাত্র কয়েক মাস। এরপর কিশোর আবারও একা হয়ে গেলেন।

বছর তিনেক পর ১৯৮০ সালে কিশোর কুমার চতুর্থবারের মতো বিয়ে করেন। পাত্রীর নাম লীনা চন্দ্রভারকার। তাঁদের সংসার টিকে ছিল কিশোরের মৃত্যু পর্যন্ত। শোনা যায়, লীনাকে বিয়ে করে সুখী হয়েছিলেন কিশোর। ১৯৮১ সালে এই সংসারে কিশোরের দ্বিতীয় সন্তান সুমিত কুমারের জন্ম হয়।
কিশোর কুমারের ক্যারিয়ার তখন তুঙ্গে। কিন্তু বোম্বের (মুম্বাই) জীবন আর আগের মতো ভালো লাগছিল না তাঁর। তাই ১৯৮৫ সালে মধ্যপ্রদেশের খান্দোয়ায় নিজের পৈতৃক বাড়িতে চলে যান। সেখান থেকেই তিনি গান গেয়ে যাচ্ছিলেন।
মুম্বাই ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে খুব বেশি দিন তিনি থাকতে পারলেন না। ১৯৮৭ সালের ১৩ অক্টোবর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন। ১৯২৯ সালের ৪ আগস্ট জন্ম নেওয়া কিশোর আজ বেঁচে থাকলে ৯৭ বছরে পা রাখতেন।
জাদুকরী কণ্ঠে অগণিত শ্রোতার হৃদয় রাঙিয়েছেন কিশোর। কিন্তু তাঁর জীবন ছিল ঠিক তাঁর গানগুলোর মতোই—কখনো উচ্ছ্বসিত, কখনো উদাস, আবার কখনো তীব্র আবেগে ভরা। ব্যক্তিগত জীবনে যতটা অস্থিরতা ছিল, সংগীত জীবনে তিনি ছিলেন ততটাই স্থির ও নিবেদিত। সময়ের পরীক্ষায় বারবার ভেঙে পড়েও তিনি আবার উঠে দাঁড়ানোর দৃঢ়তা দেখিয়েছিলেন।

অগ্নিঝরা মার্চ চলছে। এই মাস যেমন বাঙালির শ্রেষ্ঠ অর্জনের স্মারক, তেমনি তা পাকিস্তানি হানাদারদের চরম পৈশাচিকতারও সাক্ষী। ১৯৭১ সালের মার্চে পাকিস্তানি বাহিনী মেতে উঠেছিল এক সুপরিকল্পিত নিধনযজ্ঞে। তাদের সেই বর্বরোচিত আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু কেবল সম্মুখ সমরের যোদ্ধা বা রাজনৈতিক কর্মীরাই ছিল এমন নয়। বহু মান
১ ঘণ্টা আগে
অগ্নিঝরা মার্চের শুরু। এই মাস আমাদের জাতীয় জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জনের সূচনালগ্ন। আবার সেই সাথে শোক ও দহনের স্মৃতিবাহক। ১৯৭১ সালের মার্চে বাংলার মানুষ যখন স্বাধীনতার স্বপ্নে বিভোর, ঠিক তখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এক পরিকল্পিত নিধনযজ্ঞে। তাদের এই পাশবিকতার সবচেয়ে করুণ আখ্যানটি সম্ভবত হলো
১ ঘণ্টা আগে
শীতের রুক্ষ দিনগুলো শেষ। প্রকৃতি এখন নতুন প্রাণের স্পন্দনে জেগে উঠছে। আর এই ঋতুরাজ বসন্তের আগমনী বার্তা নিয়ে মৌলভীবাজারের পথে-প্রান্তরে ফুটেছে চিরচেনা ‘ভাঁটফুল’। গ্রামীণ মেঠোপথ, সড়কের ধার কিংবা নদী-খালের পাড়—যেদিকেই তাকানো যায়, সাদা আর হালকা বেগুনি রঙের থোকা থোকা ভাঁটফুলে যেন প্রকৃতি সেজেছে।
২ ঘণ্টা আগে
আজ মার্চের প্রথম দিন। বসন্তের দখিনা হাওয়ার সঙ্গে আজ মিশে আছে এক বিশেষ গর্ব আর বিষাদমাখা ইতিহাস। আজ থেকে ৫৫ বছর আগে এই মার্চ মাসেই বাঙালির হাজার বছরের পরাধীনতার শিকল ভাঙার চূড়ান্ত সংগ্রাম শুরু হয়েছিল। আজ সেই ‘অগ্নিঝরা মার্চের’ প্রথম দিন।
৩ ঘণ্টা আগে