ad

লতিফুল ইসলাম শিবলীর সাক্ষাৎকার/‘নজরুল ইনস্টিটিউটকে জাতীয়করণ করার বিষয়ে আলাপ চলছে’

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য ও দর্শনকে বিশ্বদরবারে ছড়িয়ে দেওয়া এবং তরুণ প্রজন্মের কাছে তা আরও প্রাসঙ্গিক করে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে কবি নজরুল ইনস্টিটিউট। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নজরুলকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া ও গ্যাজেটভুক্ত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে ভূমিকা রেখেছেন গীতিকার, নাট্যকার ও লেখক লতিফুল ইসলাম শিবলী। এই সাক্ষাৎকারে তিনি ইনস্টিটিউটের অগ্রগতি, নানা চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে স্ট্রিমের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন হুমায়ূন শফিক

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

লতিফুল ইসলাম শিবলী। ছবি: সংগৃহীত
লতিফুল ইসলাম শিবলী। ছবি: সংগৃহীত

স্ট্রিম: নজরুল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর যেসব লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন, সেগুলো কতটা পূরণ হলো?

লতিফুল ইসলাম শিবলী: কতটা পূরণ করতে পেরেছি বলা কঠিন। যেমন শুরুতেই কবি নজরুলকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার কাজটি আমরা করেছি। এটা একটা বড় কাজ। এছাড়াও নজরুল সাহিত্যকে বিশ্বময় ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য তাঁর লেখালেখি ইংরেজিতে অনুবাদ করার দরকার ছিল। অনুবাদের কাজটি করতে পেরেছি আমরা। ‘কুইন্টেসেন্স অব নজরুল’ নামে ইংরেজিতে প্রকাশিত হয়েছে ইতিমধ্যে।

এখন আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে অন্যান্য ভাষায় ট্রান্সলেট করা। আমরা ফরাসি ল্যাঙ্গুয়েজে অনুবাদ করার বিষয়ে কথাবার্তা বলছি। এছাড়াও কমপক্ষে আরও দুই তিনটি বিদেশি ভাষায় এটাকে অনুবাদ করার চেষ্টা করছি। চায়নিজ, ফ্রেঞ্চ, ফারসি…।

স্ট্রিম: আরবি?

লতিফুল ইসলাম শিবলী: অ্যারাবিক আছে। তো এরকম খুব বিশেষ এবং শক্তিশালী যে সব ভাষা আছে এবং যে সব ভাষা বেশি প্রচলিত, সেই ভাষাগুলোকে আমরা টার্গেট করেছি।

স্ট্রিম: তাহলে তো সেই হিসেবে চায়নিজ ভাষায়ও করার দরকার।

লতিফুল ইসলাম শিবলী: হ্যাঁ, চায়নিজদের সঙ্গেও কথাবার্তা হচ্ছে আমাদের। আমাদের কথাবার্তা অনেক দূর এগিয়েছে। যেমন আলিয়ঁস ফ্রঁসেজের সঙ্গে আমাদের অনেক দূর এগিয়েছে কথাবার্তা। ওদের ডিরেক্টর এখন ফ্রান্সে আছেন। তিনি এলে আমরা হয়তো একটা এমওইউ করে ফেলতে পারব। তবে এটা যদি না হয়... কারণ আমার মেয়াদ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। সেপ্টেম্বরের মধ্যে না হলে ধরে নেব কাজটা করতে পারলাম না। আর যদি আমার মেয়াদ থাকে, মানে আবার রিনিউ হয়, তাহলে হয়তো এটা করতে পারব।

স্ট্রিম: আর?

লতিফুল ইসলাম শিবলী: একটি বিষয় নতুন করে মাথায় এসেছে আমার। এই প্রতিষ্ঠান হচ্ছে স্বায়ত্বশাসিত। সরকারি কিন্তু স্বায়ত্বশাসিত। এটাকে জাতীয়করণ করা যায় কিনা, সেটা নিয়েও আলাপ চলছে। এ বিষয়ে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। কারণ জাতীয় কবির নামে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের তো জাতীয়করণ হওয়াই উচিত।

নজরুল ইনস্টিটিউট। স্ট্রিম ছবি
নজরুল ইনস্টিটিউট। স্ট্রিম ছবি

স্ট্রিম: অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মতো একই সুযোগ-সুবিধা আছে কিনা?

লতিফুল ইসলাম শিবলী: সব নেই। যেমন এখানে পেনশন দেওয়া হয় না। এরা এককালীন কিছু টাকা পায়, কিন্তু পেনশনের ব্যবস্থা ওইভাবে নেই। চাকরির ক্ষেত্রে পেনশন একটা বড় মোটিভেশন। প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখতে এসব তো করতে হবে।

স্ট্রিম: আপনি ধরেন সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আছেন বললেন, তো এরমধ্যে অন্য কোনো পদক্ষেপ নিয়েছেন? মানে নতুন করে? যেগুলো করেছেন, সেগুলো না।

লতিফুল ইসলাম শিবলী: আরেকটা পদক্ষেপ নিয়ে কথা হচ্ছে। আমরা এবার সরকারের কাছে প্রস্তাবটি দিয়েছি যে নজরুল স্মৃতিবিজড়িত ২৫টি জায়গা আছে বাংলাদেশে। এই জায়গাগুলোতে নজরুল ভ্রমণ করেছেন। যেমন বরিশাল, কুমিল্লা, চাঁদপুর, কুড়িগ্রাম, ফরিদপুর, রংপুর, দিনাজপুর, মাদারীপুর, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, ফেনী, সিলেট, গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, কুষ্টিয়া, রাজশাহী, চুয়াডাঙ্গা, ঠাকুরগাঁও, জয়পুরহাট, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও রাজবাড়ী। এই জায়গাগুলো আমরা মার্ক করতে চাই। স্মৃতিফলক বসাতে চাই। এটার প্রস্তাব সরকাকে দিয়েছি।

স্ট্রিম: নজরুলের স্মৃতিফলক বসানোর বিষয়ে যে প্রস্তাবের কথা বলছিলেন, সেটার অগ্রগতি কতদূর?

লতিফুল ইসলাম শিবলী: আমরা সরকারের কাছে প্রস্তাবটি দিয়েছি। আপনারা জানেন, বর্তমানে ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপিত হচ্ছে। এই নজরুল বর্ষের একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে আমরা সরকারকে জানিয়েছি—যদি আমরা এককভাবে এই স্মৃতিফলকটি স্থাপন করার কাজটি সম্পন্ন করতে পারি, তবে তা হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ।

স্ট্রিম: নজরুল ইনস্টিটিউটের ডিজিটালাইজেশন নিয়ে জানতে চাচ্ছিলাম। নজরুলের পাণ্ডুলিপি, অডিও রেকর্ড বা দুর্লভ ভিডিও সংরক্ষণে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে?

লতিফুল ইসলাম শিবলী: আমরা মূলত নজরুলের বইগুলোকে ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনছি। নজরুলের গুরুত্বপূর্ণ বইগুলো এখন আমাদের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, ‘কুইন্টেসেন্স অব নজরুল’ বইটি এখন যে কেউ আমাদের ওয়েবসাইটে গেলেই পাবেন। ওয়েবসাইটের একটি নির্দিষ্ট ফরম্যাটে এসব বই ই-বুক আকারে সংরক্ষিত রয়েছে।

স্ট্রিম: এই ই-বুকগুলো সাধারণ পাঠকদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য আপনারা কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছেন?

লতিফুল ইসলাম শিবলী: পাঠকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মূল উপায় হলো তথ্যটি তাঁদের জানানো। আমরা বিভিন্নভাবে জানাচ্ছি যে আমাদের বইগুলো এখন ই-বুক ফরম্যাটে ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত রয়েছে।

স্ট্রিম: এই তথ্যটি আপনারা কীভাবে পাঠকদের কাছে পৌঁছাচ্ছেন?

লতিফুল ইসলাম শিবলী: আমরা এটি বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করছি। যেমন—এখন আপনাদের এই মিডিয়ার মাধ্যমে বলছি। এছাড়া আমাদের যত আয়োজন, সভা ও সেমিনার হয়, প্রতিটি প্ল্যাটফর্মেই আমরা কথাগুলো তুলে ধরছি যে আমাদের বইগুলো পর্যায়ক্রমে ই-বুক আকারে ওয়েবসাইটে আপলোড করা হচ্ছে। তথ্য প্রচারের যতগুলো জায়গা আছে, আমরা সেগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার করছি।

আমরা টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে চিঠি দিয়ে অনুরোধ করেছি যাতে তারা সপ্তাহে বা মাসে অন্তত একটি নির্দিষ্ট সময় আমাদের জন্য বরাদ্দ রাখে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে চ্যানেলগুলোর বাণিজ্যিক ও বিজ্ঞাপনী স্বার্থ জড়িত থাকায় তাদের কাছ থেকে এখনও আশানুরূপ কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি।


স্ট্রিম: মানে আলাদাভাবে সুনির্দিষ্ট কোনো বিশেষ প্রচারমূলক পদক্ষেপ নিয়েছেন কি?

লতিফুল ইসলাম শিবলী: দেখুন, সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে হলে গণমাধ্যমকে ব্যবহারের বিকল্প কোনো উপায় নেই। মিডিয়াই সবচেয়ে বড় মাধ্যম।

স্ট্রিম: না, মানে আপনারা নিজেরা সরাসরি কেবল এই বিষয়টি জানানোর জন্যই আলাদা কোনো অনুষ্ঠান বা ক্যাম্পেইন করেছেন কিনা?

লতিফুল ইসলাম শিবলী: আসলে শুধুমাত্র এটি জানানোর জন্য আলাদা কোনো বিশেষ অনুষ্ঠানের প্রয়োজন নেই। আমাদের নিয়মিত যে অনুষ্ঠানগুলো হয়, সেখানেই আমরা এটি সবাইকে জানিয়ে দিতে পারি। প্রায়শই মানুষ আমাদের কাছে জানতে চান যে বইগুলো অনলাইনে কোথায় পাওয়া যাবে। আমরা তখন তাঁদের সরাসরি আমাদের ওয়েবসাইটে যাওয়ার পরামর্শ দিই।

স্ট্রিম: এবার গবেষণা প্রসঙ্গে আসি। আপনাদের প্রতিষ্ঠানে তো নজরুলবিষয়ক নানা গবেষণা হয়। আপনারা গবেষকদের কীভাবে কাজে যুক্ত করেন?

লতিফুল ইসলাম শিবলী: আমরা সরাসরি গবেষক হিসেবে কাউকে নিয়মিত নিয়োগ দিই না।

স্ট্রিম: মানে নিয়োগ নয়, হয়তো গবেষকরা নিজেদের মতো কাজ করেন বা কোনো বিষয়ের ওপর তাঁদের দায়িত্ব দেওয়া হয়...

লতিফুল ইসলাম শিবলী: বিষয়টি মূলত এমন—বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব গবেষক নজরুলকে নিয়ে গবেষণা করছেন, তাঁদের সুবিধার জন্য আমাদের এখানে একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি রয়েছে। তাঁরা নজরুলবিষয়ক গবেষণার জন্য এই লাইব্রেরিটি ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া পিএইচডি ও এমফিল পর্যায়ের যেসব গবেষণাপত্র আমাদের কাছে জমা পড়ে, সেগুলো মূল্যায়নের জন্য আমাদের একটি শক্তিশালী রিভিউ কমিটি রয়েছে। সেই কমিটি গবেষণাপত্রটি পর্যালোচনা করে যদি প্রকাশের যোগ্য মনে করে, তবে আমরা আমাদের এখান থেকেই তা গ্রন্থাকারে প্রকাশ করি।

স্ট্রিম: আর যদি আপনারা নির্দিষ্ট কোনো গবেষককে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর গবেষণার দায়িত্ব দেন, সেক্ষেত্রে প্রক্রিয়াটি কেমন হয়?

লতিফুল ইসলাম শিবলী: আগে একটি গবেষণা অনুদান বা ‘গ্রান্ট’ দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল, কিন্তু সেটি এখন বন্ধ আছে।

স্ট্রিম: অনুদানটি এখন আর দেওয়া হচ্ছে না?

লতিফুল ইসলাম শিবলী: না, বর্তমানে অনুদানটি চালু নেই। কারণ এটি মূলত সরকারের বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়া হতো।

স্ট্রিম: আপনি দায়িত্ব নেওয়ার পরও কি এমন কোনো প্রকল্প এসেছে?

লতিফুল ইসলাম শিবলী: আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর আমরা ইতোমধ্যে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে পাঁচটি গবেষণাধর্মী গ্রন্থ প্রকাশ করেছি।

স্ট্রিম: কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো গবেষণার জন্য বিশেষ অনুদান কি ছিল?

লতিফুল ইসলাম শিবলী: না, গবেষণার জন্য আলাদা কোনো গ্রান্ট এখনও আসেনি। এগুলো আসলে প্রকল্পের বিষয়, যা রুটিন অনুযায়ী সরকার থেকে বরাদ্দ করা হয়; আলাদা করে চাইতে হয় না। অতীতে এভাবেই অনুদান দেওয়া হতো। হয়তো অদূর ভবিষ্যতে সরকার আবারও এই গ্রান্ট বা অনুদান চালু করবে। আপাতত এই রুটিন ওয়ার্কের অনুদানটি বন্ধ রয়েছে।

স্ট্রিম: অনুবাদ ও প্রকাশনা নিয়ে তো বিস্তারিত জানলাম। আপনাদের যে প্রশিক্ষণ কর্মশালাগুলো চলে, সেগুলোর বর্তমান অবস্থা কী?

লতিফুল ইসলাম শিবলী: প্রশিক্ষণ আমাদের নিয়মিত কার্যক্রমের একটি অংশ। আমাদের এখানে নজরুলগীতি, আবৃত্তি এবং নৃত্যের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। নজরুলসঙ্গীতের উচ্চতর ক্লাসের শিক্ষার্থীদের আমরা এখান থেকে ডিপ্লোমা সার্টিফিকেট প্রদান করি। এর পাশাপাশি আমরা একটি নতুন উদ্যোগ নিয়েছি—প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নজরুলের কবিতার ওপর একটি বিশেষ আবৃত্তি কোর্স চালু করতে যাচ্ছি। আগামী জানুয়ারি মাস থেকেই এই কোর্সের কার্যক্রম শুরু হবে। এজন্য আমরা সম্প্রতি প্রখ্যাত আবৃত্তিশিল্পী নাসিম আহমেদকে নতুন প্রশিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছি।

স্ট্রিম: আগামী জানুয়ারি থেকেই শুরু হচ্ছে?

লতিফুল ইসলাম শিবলী: হ্যাঁ। এতদিন আমাদের এখানে আবৃত্তি প্রশিক্ষণ শুধুমাত্র শিশু ও কিশোরদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।

স্ট্রিম: বড়দের জন্য কোনো সুযোগ ছিল না?

লতিফুল ইসলাম শিবলী: বড়দের জন্য এতদিন কোনো আবৃত্তি কোর্স ছিল না। তাই এবার আমরা এটি যুক্ত করলাম, যাতে বড়রাও যথাযথ নিয়মে নজরুলের কবিতা আবৃত্তি শিখতে ও চর্চা করতে পারেন।

স্ট্রিম: আপনি এর আগে সাংবাদিকদের জন্য একটি কোর্সের কথা বলেছিলেন, সেটির অগ্রগতি কতদূর?

লতিফুল ইসলাম শিবলী: হ্যাঁ, সেই কোর্সের প্রস্তাবটি বর্তমানে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে নিরীক্ষাধীন রয়েছে।

স্ট্রিম: এত সময় লাগছে কেন?

লতিফুল ইসলাম শিবলী: এর কারণ হচ্ছে, সাংবাদিকতা কোর্স চালুর বিষয়টি নজরুল ইনস্টিটিউটের বিদ্যমান নীতিমালার আওতায় পড়ে না। নীতিমালায় আমাদের কিছু নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা বা প্রাতিষ্ঠানিক কাজের পরিধি নির্ধারিত আছে। সেই নীতিমালায় সাংবাদিকতা কোর্স পরিচালনার কোনো সুযোগ লিপিবদ্ধ নেই। তাই কোর্সটি অন্তর্ভুক্ত করতে হলে পুরো নীতিমালাটিই সংশোধন করা প্রয়োজন। আর সে কারণেই প্রক্রিয়াটিতে কিছুটা সময় লাগছে।

কুমিল্লায় নজরুল ইনস্টিটিউটের শাখা। ছবি: উইকিপিডিয়া
কুমিল্লায় নজরুল ইনস্টিটিউটের শাখা। ছবি: উইকিপিডিয়া

স্ট্রিম: তার মানে আপনারা পুরো নীতিমালাটিই পরিবর্তন করছেন?

লতিফুল ইসলাম শিবলী: হ্যাঁ, আমরা পুরো নীতিমালাটিই একেবারে আমূল পরিবর্তন করতে যাচ্ছি। এটি একটি বড় ধরনের কাজ। ২০১৮ সালে আমাদের এই নীতিমালাটি তৈরি হয়েছিল। সময়ের প্রয়োজনেই এটিকে এখন যুগোপযোগী করা দরকার। কারণ বর্তমান প্রেক্ষাপটে চিন্তাভাবনা এবং সময়ের অনেক পরিবর্তন এসেছে। এছাড়া আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা শিগগিরই একটি নতুন ৯ তলা ভবন পেতে যাচ্ছি।

স্ট্রিম: নতুন ভবনের বিষয়টি এর আগেও উল্লেখ করেছিলেন। সেটি কি এখনও চালু হয়নি?

লতিফুল ইসলাম শিবলী: না, এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়নি। একটি নতুন সরকারি ভবন হস্তান্তরের কিছু নির্ধারিত প্রক্রিয়া ও আনুষ্ঠানিকতা থাকে, আমরা বর্তমানে সেই প্রক্রিয়ার মধ্যেই রয়েছি।

স্ট্রিম: নতুন ভবনের বিষয়টি তো বেশ কিছুদিন ধরেই শুনছি।

লতিফুল ইসলাম শিবলী: হ্যাঁ, এটি একটি সরকারি স্থাপনা হওয়ায় এখানে অনেকগুলো অংশীজন বা স্টেকহোল্ডার জড়িত। ভবনের নির্মাণকাজ ও অন্যান্য কারিগরি বিষয় যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছে কিনা, তা বিভিন্ন পক্ষের পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষার পরই ভবনটি আমাদের বুঝে নিতে হবে। যেমন—বৈদ্যুতিক ওয়্যারিংয়ের কাজ ঠিকমতো হয়েছে কিনা তা তৃতীয় পক্ষ এসে যাচাই করবে। ভবনের পাইলিং, রড, বালি, সিমেন্ট এবং মূল নকশা অনুযায়ী কাজ হয়েছে কিনা তা নিরীক্ষা করা হবে। এরপর আমাদের নিজস্ব বিশেষজ্ঞ টিম গিয়ে দেখবে যে আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু প্রস্তুত আছে কিনা। এভাবে তিন-চারটি স্টেকহোল্ডার কমিটির ছাড়পত্র পাওয়ার পরই ভবনটি আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। আর এ কারণেই কিছুটা সময় ব্যয় হচ্ছে।

স্ট্রিম: নজরুল ইনস্টিটিউট কি সরাসরি কোনো বইমেলার আয়োজন করে না?

লতিফুল ইসলাম শিবলী: সব বইমেলার আয়োজন সরাসরি নজরুল ইনস্টিটিউট করে না। বইমেলার আয়োজনের জন্য সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র’ রয়েছে। তারাই মূলত বইমেলার আয়োজন করে থাকে, আর আমরা সেই মেলাগুলোতে নিয়মিত অংশগ্রহণ করি। বইমেলার একক আয়োজন মূলত গ্রন্থকেন্দ্রের কাজের পরিধির অংশ, তবে আমরা একই মন্ত্রণালয়ের অংশীদার হিসেবে সেখানে সক্রিয়ভাবে উপস্থিত থাকি।

স্ট্রিম: কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আপনারা কী কী কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন?

লতিফুল ইসলাম শিবলী: ২৭ আগস্ট (১২ই ভাদ্র), বৃহস্পতিবার কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিকেল ৪টা থেকে আমাদের মিলনায়তনে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী নজরুল’ শীর্ষক একটি বিশেষ সেমিনার ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

স্ট্রিম: এই বিশেষ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কোনো নতুন স্মারকগ্রন্থ বা বিশেষ প্রকাশনা বের হচ্ছে কি?

লতিফুল ইসলাম শিবলী: না, এই আয়োজন উপলক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে আলাদা কোনো বিশেষ প্রকাশনা বের হচ্ছে না। প্রতিবারের মতো এটি মূলত আনুষ্ঠানিক স্মারক আয়োজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

স্ট্রিম: অনেক প্রতিষ্ঠানে এমন বিশেষ দিনে ছোট পরিসরে হলেও কোনো স্মরণিকা বা লেখা প্রকাশ করতে দেখা যায়। আপনাদের তেমন কোনো পরিকল্পনা আছে?

লতিফুল ইসলাম শিবলী: আমাদের ইনস্টিটিউট থেকে তো নিয়মিত গবেষণাধর্মী সাময়িকী ও পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছেই।

ত্রিশালে নজরুল স্মৃতিকেন্দ্র। ছবি: সংগৃহীত
ত্রিশালে নজরুল স্মৃতিকেন্দ্র। ছবি: সংগৃহীত

স্ট্রিম: নিয়মিত পত্রিকার পাশাপাশি কোনো বিশেষ সংখ্যা বের করার কথা বলছিলাম।

লতিফুল ইসলাম শিবলী: না, আলাদা কোনো বিশেষ সংখ্যা নেই। তবে আমাদের কাছে যখন পর্যাপ্ত মানসম্মত ও গুরুত্বপূর্ণ লেখা জমা হয়, তখন আমরা দ্রুত সেগুলো সম্পাদনা করে প্রাতিষ্ঠানিক পত্রিকা ও প্রকাশনার মাধ্যমে তা পাঠকের কাছে পৌঁছে দিই।

স্ট্রিম: দেশের বাইরে নজরুল ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে?

লতিফুল ইসলাম শিবলী: দেশের বাইরে আমরা এখন পর্যন্ত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে ‘নজরুল সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা করেছি—ফ্রান্সের প্যারিস, যুক্তরাজ্যের লন্ডন এবং জাপানের টোকিওতে।

স্ট্রিম: বিদেশের এই তিনটি সেন্টারের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাই।

লতিফুল ইসলাম শিবলী: বিদেশের কেন্দ্রগুলো মূলত আমাদের কেন্দ্রীয় কার্যক্রম ও নির্দেশনা অনুসরণ করে পরিচালিত হয়। যেমন—কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আমরা দেশে যে কর্মসূচি নিচ্ছি, এই তিনটি কেন্দ্রেও স্থানীয়ভাবে অনুরূপ কর্মসূচি পালিত হবে।

স্ট্রিম: ভিন্ন ভিন্ন দেশের সংস্কৃতি ও প্রেক্ষাপট তো ভিন্ন। সেখানে নজরুল চর্চা কীভাবে পরিচালিত হয়?

লতিফুল ইসলাম শিবলী: অবশ্যই, সেখানে তারা স্থানীয় পরিবেশ ও প্রেক্ষাপট অনুযায়ী অনুষ্ঠানগুলো সাজায়। আমরা বাংলাদেশে যে মূল কর্মসূচিগুলো গ্রহণ করি, তারা সেগুলোর ভাবধারা অনুসরণ করে। বিদেশের এসব কেন্দ্রে স্থানীয় অধিবাসী ও বিদেশিরাও নিয়মিত অংশগ্রহণ করছেন। তাঁরা নজরুলের গান গাইছেন, কবিতা আবৃত্তি করছেন, কবিকে নিয়ে আলোচনা ও উপস্থাপনা করছেন। এর ফলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নজরুলের দর্শন ও সাহিত্যের চর্চা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

স্ট্রিম: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপনাদের ফেসবুক পেজ রয়েছে। সেখানে কি নিজস্ব কোনো নিয়মিত অডিও-ভিডিও পডকাস্ট বা ডিজিটাল অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা আছে?

লতিফুল ইসলাম শিবলী: না, বর্তমানে আমাদের নিজস্ব কোনো ডিজিটাল পডকাস্ট হচ্ছে না।

স্ট্রিম: ভবিষ্যতে এমন কোনো উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভাবছেন কি?

লতিফুল ইসলাম শিবলী: আমরা নিয়মিত নজরুল বিষয়ক অনুষ্ঠান প্রচারের জন্য দেশের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। আমরা টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে চিঠি দিয়ে অনুরোধ করেছি যাতে তারা সপ্তাহে বা মাসে অন্তত একটি নির্দিষ্ট সময় আমাদের জন্য বরাদ্দ রাখে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে চ্যানেলগুলোর বাণিজ্যিক ও বিজ্ঞাপনী স্বার্থ জড়িত থাকায় তাদের কাছ থেকে এখনও আশানুরূপ কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। আমরা প্রায় সব টিভি চ্যানেলকেই চিঠি দিয়ে জানিয়েছি যে, তারা যদি আমাদের একটি নির্দিষ্ট সময় দেয়, তবে আমরা আমাদের শিল্পী ও গবেষক-আলোচকদের নিয়ে নিজেরাই মানসম্মত নজরুলবিষয়ক অনুষ্ঠান তৈরি করে দেব; তারা কেবল স্পনসর সংগ্রহ করে তা সম্প্রচারের ব্যবস্থা করবে।

স্ট্রিম: সার্বিক কার্যক্রম ও গবেষণাকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বাজেট, জনবল ও কাঠামোগত কী ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে?

লতিফুল ইসলাম শিবলী: আমাদের বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সবচেয়ে বড় সংকট হলো তীব্র জনবল ঘাটতি। আমাদের অর্গানোগ্রামে এখনো ২২টি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য রয়েছে। এই শূন্যপদের অর্ধেক সরাসরি মন্ত্রণালয় থেকে পূরণ করা হবে এবং বাকি অর্ধেক নিয়োগের প্রক্রিয়া আমরা প্রায় গুছিয়ে এনেছি। খুব দ্রুতই আমরা জনবল নিয়োগের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করব।

আগে একটি গাড়ি ছিল, কিন্তু সেটি অনেক পুরনো ও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় বাতিল করা হয়েছে। ফলে একজন মহাপরিচালক বা নির্বাহী পরিচালককে এখন ভাড়া গাড়িতে যাতায়াত করতে হচ্ছে, যা একটি বড় ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ঘাটতি।

স্ট্রিম: নজরুল ইনস্টিটিউটের বার্ষিক বাজেট কেমন বরাদ্দ থাকে?

লতিফুল ইসলাম শিবলী: বরাদ্দকৃত বাজেট প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাসহ পুরো প্রতিষ্ঠানের সার্বিক বার্ষিক বাজেট মাত্র সাড়ে ছয় কোটি টাকা। এই সীমাবদ্ধতা দেখলেই বোঝা যায় বাজেট কতটা সীমিত।

স্ট্রিম: প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে মোট কতজন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত আছেন?

লতিফুল ইসলাম শিবলী: আমাদের অনুমোদিত অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী মোট পদের সংখ্যা ৬৭টি। সেখান থেকে ২২টি শূন্যপদ বাদ দিলে বর্তমানে কর্মরত আছেন প্রায় ৪৫ জন।

স্ট্রিম: দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আর্থিক বা কাঠামোগত আর কী কী বড় প্রতিবন্ধকতা আপনি প্রত্যক্ষ করেছেন?

লতিফুল ইসলাম শিবলী: মূল প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে আর্থিক সীমাবদ্ধতা। পর্যাপ্ত তহবিল থাকলে অনেক বড় বড় কাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতো। যেমন—আমাদের হয়তো ১০টি সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্য থাকে, কিন্তু বাজেটের অভাবে হয়তো ৭টি করা সম্ভব হয় এবং বাকি ৩টি কাজ স্থগিত রাখতে হয়। তাছাড়া সরকারি ব্যয় সংকোচনের কারণে অনেক লজিস্টিক সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। প্রতিষ্ঠানে আমাদের নিজস্ব কোনো দাপ্তরিক গাড়ি নেই; আমরা বর্তমানে ভাড়া করা গাড়িতে যাতায়াত করি।

স্ট্রিম: প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে আপনার নিজস্ব কোনো সরকারি গাড়ি নেই?

লতিফুল ইসলাম শিবলী: না, বর্তমানে কোনো স্থায়ী সরকারি গাড়ি নেই। আগে একটি গাড়ি ছিল, কিন্তু সেটি অনেক পুরনো ও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় বাতিল করা হয়েছে। ফলে একজন মহাপরিচালক বা নির্বাহী পরিচালককে এখন ভাড়া গাড়িতে যাতায়াত করতে হচ্ছে, যা একটি বড় ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ঘাটতি। এমনকি আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহনের জন্য যে একটি পুরোনো গাড়ি রয়েছে, সেটিও অত্যন্ত জরাজীর্ণ এবং প্রায়শই নষ্ট হয়ে থাকে। এছাড়া সরকারের কাছ থেকে কোনো উন্নয়নমূলক কাজের জন্য অর্থ ছাড় করানোর প্রক্রিয়াতেও বেশ দীর্ঘসূত্রিতা থাকে।

স্ট্রিম: নজরুলকে দেশ-বিদেশে আরও ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

লতিফুল ইসলাম শিবলী: আমার প্রধান লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের ৬৫টি জেলাতেই পর্যায়ক্রমে ‘নজরুল উৎসব’ আয়োজন করা। দেশের অনেক এলাকায় নজরুল চর্চা এত কম যে, অনেকেই সঠিকভাবে জানেন না তিনিই আমাদের জাতীয় কবি। সাধারণ মানুষ ও তরুণদের মাঝে এই চেতনা ছড়িয়ে দিতে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত—প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় নিয়মিত অনুষ্ঠান আয়োজন করতে হবে। তবেই নজরুলের প্রকৃত চর্চা বিস্তার লাভ করবে।

স্ট্রিম: ঢাকার বাইরে বর্তমানে নজরুল ইনস্টিটিউটের কয়টি আঞ্চলিক শাখা রয়েছে?

লতিফুল ইসলাম শিবলী: ঢাকার বাইরে বর্তমানে আমাদের মাত্র দুটি আঞ্চলিক কেন্দ্র রয়েছে—একটি ময়মনসিংহের ত্রিশালে এবং অন্যটি কুমিল্লায়।

নজরুল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক লতিফুল ইসলাম শিবলী। ছবি: সংগৃহীত
নজরুল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক লতিফুল ইসলাম শিবলী। ছবি: সংগৃহীত

স্ট্রিম: এই দুটি কেন্দ্রের বাইরে নতুন কোনো শাখা খোলার পরিকল্পনা আছে কি?

লতিফুল ইসলাম শিবলী: এই দুটির বাইরে নতুন কেন্দ্র স্থাপনের চমৎকার সুযোগ রয়েছে। যেমন—মানিকগঞ্জের কবি স্মৃতিবিজড়িত তেওতায় একটি কেন্দ্র করা যায়। এছাড়া কুমিল্লার শহর থেকে দূরবর্তী মুরাদনগরে নার্গিসের স্মৃতিবিজড়িত বাড়িতেও একটি কেন্দ্র স্থাপন করা সম্ভব। বাংলাদেশে কবির স্মৃতিবিজড়িত এমন প্রায় ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে। এই স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলোকে কেন্দ্র করে যদি আমরা শাখা বা কার্যক্রম বৃদ্ধি করতে পারি, তবে নজরুলের স্মৃতি ও সাহিত্য আরও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।

স্ট্রিম: প্রকাশনার ক্ষেত্রে বইমেলা উপলক্ষে কি আলাদা কোনো বিশেষ বই প্রকাশের পরিকল্পনা থাকে?

লতিফুল ইসলাম শিবলী: আমাদের প্রকাশনা কার্যক্রম সারা বছরই সক্রিয় থাকে। আমরা কেবল বাণিজ্যিক লাভ বা বই বিক্রির উদ্দেশ্যে কাজ করি না। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো মানসম্মত ও গভীর গবেষণাধর্মী পাণ্ডুলিপি প্রকাশ করা। তাই যখনই কোনো মানসম্পন্ন গবেষণাকর্ম আমাদের হাতে আসে, আমরা কালক্ষেপণ না করে তা প্রকাশ করি।

স্ট্রিম: আপনারা কি নজরুল বিষয়ে আগ্রহী গবেষক বা লেখকদের নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ের ওপর গবেষণার প্রস্তাব দেন?

লতিফুল ইসলাম শিবলী: হ্যাঁ, আমরা গবেষকদের নজরুলের বিষয়ে গতানুগতিক ধারার বাইরে এসে অপ্রচলিত দিকগুলো নিয়ে চিন্তা করতে উৎসাহিত করি। যেমন—নজরুলের ‘দ্রোহ’ নিয়ে ইতোমধ্যে শত শত বই রচিত হয়েছে। কিন্তু নজরুলের ‘চলচ্চিত্র ভাবনা’, নজরুলের ‘নাট্য ভাবনা’ কিংবা ‘সাংবাদিক নজরুল’ নিয়ে গভীর গবেষণাধর্মী কাজ হাতে গোনা কয়েকটি মাত্র। তাই যখন কোনো গবেষক আমাদের কাছে পরামর্শ চান, আমরা তাঁদের নজরুলের এই অনালোকিত ও স্বল্পালোচিত ক্ষেত্রগুলোর ওপর আলোকপাত করার অনুরোধ জানাই। এই পরামর্শে অনেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে গবেষণার কাজ শুরু করছেন।

স্ট্রিম: নজরুলকে জানার ক্ষেত্রে বর্তমান তরুণ প্রজন্মের জন্য আপনার কী বার্তা থাকবে?

লতিফুল ইসলাম শিবলী: তরুণ প্রজন্মের মাঝে নজরুলকে ছড়িয়ে দিতে আমরা একটি নতুন উদ্যোগ নিয়েছিলাম, যা আগে কেউ করেনি। আমরা নজরুলগীতিকে আধুনিক রক মিউজিকের সঙ্গে ফিউশন করে ‘নজরুল রক কনসার্ট’ আয়োজন করেছি। এতে তরুণদের কাছ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া মিলেছে। নজরুলের যেসব দ্রোহ, জাতীয় উদ্দীপনা ও গণজাগরণের গান রয়েছে, সেগুলোকে কনসার্টের মাধ্যমে বড় পরিসরে তরুণদের সামনে উপস্থাপন করা গেলে তা তারুণ্যের মাঝে এক বিশাল জাগরণ তৈরি করবে।

স্ট্রিম: তরুণ সমাজের উদ্দেশ্যে বিশেষ কোনো অনুপ্রেরণামূলক কিছু বলুন…

লতিফুল ইসলাম শিবলী: সত্যি বলতে, এই প্রজন্মের তরুণদের নতুন করে বলার কিছু নেই; কারণ এই তরুণরা ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নিজেরাই কবি নজরুলকে নতুন করে আবিষ্কার করেছে। যার ফলে নজরুল এই ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের প্রধানতম আইকনিক কবি হয়ে উঠেছিলেন। আমরা তরুণদের কোনো বার্তা দেওয়ার আগেই তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের কবিকে খুঁজে নিয়েছে। আমাদের যুবসমাজ অত্যন্ত বিচক্ষণ ও সচেতন; তাদের এই চেতনাকে আমি স্যালুট জানাই। তারা বুঝতে পেরেছে যে জাতির পথনির্দেশনার জন্য আমাদের একজন জাতীয় কবি রয়েছেন। তরুণদের প্রতি আমার একটাই আহ্বান—তোমরা নজরুল চর্চাকে আরও বাড়িয়ে দাও। তরুণদের মধ্যে নজরুলের দ্রোহ ও সাম্যের চর্চা যত বাড়বে, জাতি তত বেশি সচেতন ও স্বাবলম্বী হবে। আর জাতি সচেতন থাকলে কোনো স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদ আর কখনোই আমাদের ওপর জাঁকিয়ে বসতে পারবে না।

স্ট্রিম: আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

লতিফুল ইসলাম শিবলী: আপনাকে এবং ঢাকা স্ট্রিমকেও অনেক ধন্যবাদ।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত