বাংলাদেশ কি মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হচ্ছে?

আহমেদ সুমন
আহমেদ সুমন

স্ট্রিম গ্রাফিক্স
স্ট্রিম গ্রাফিক্স

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা চুক্তি’তে বাংলাদেশ যুক্ত হবে কি হবে না, তা নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা হচ্ছে। এই আলোচনা এখন শুধু বাংলাদেশের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নেই, এটা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ছড়িয়েছে। তবে একটি বিষয় উল্লেখ করা দরকার—চুক্তিতে সই করা কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত বাংলাদেশকে এতে যোগ দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানায়নি।

তা সত্ত্বেও চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদান করা, না করা নিয়ে আলোচনা প্রাসঙ্গিক। কারণ বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্রগুলোর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে অনানুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, বাংলাদেশের বৃহৎ প্রতিবেশী দেশ ভারতও এই চুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহ বা অনাগ্রহের দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছে।

গত ৭ আগস্ট মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সই করে। এটি মূলত পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আদলেই তৈরি করা হয়েছে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, এর কোনো একটি সদস্য দেশের ওপর অন্য কোনো দেশ সশস্ত্র হামলা চালালে, তা সব সদস্য দেশের ওপরই হামলা বলে গণ্য হবে। এই চুক্তির বিষয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু এই তিনটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা নয়। আমরা চাই এর পরিধি আরও বাড়ুক। সম্ভব হলে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করা, যাতে একদিন এই অঞ্চলের সব দেশ একই ছাতার নিচে আসতে পারে।”

সবারই জানা আছে যে, এই চুক্তির মূল উদ্যোক্তা সৌদি আরব। এখানে মনে রাখা প্রয়োজন, মধ্যপ্রাচ্য বা উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম শক্তিশালী দেশ ইরানের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক মোটেও বন্ধুত্বপূর্ণ নয়। বরং বলা যায়, এই দুই দেশের মধ্যে একধরনের বৈরী সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলের বিষয়ে এই দুই দেশের পররাষ্ট্রনীতি সম্পূর্ণ আলাদা।

এই চুক্তির বিষয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু এই তিনটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা নয়। আমরা চাই এর পরিধি আরও বাড়ুক। সম্ভব হলে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করা, যাতে একদিন এই অঞ্চলের সব দেশ একই ছাতার নিচে আসতে পারে।”

মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্রগুলো ধর্মীয় দিক থেকে অভিন্ন হলেও তাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে আন্তঃসম্পর্ক বেশ জটিল। ক্ষেত্রবিশেষে তা একেবারেই বিপরীতমুখী। এসব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা-বিশ্বাসের মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে। এখানকার অনেক মুসলিম দেশ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখার চেয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নীতির সঙ্গে মিল রেখে নিজেদের পররাষ্ট্রনীতি তৈরি করছে। স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে দেশগুলোর মধ্যে মতের মিল দেখা গেলেও ইরানের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে তারা সাধারণত নীরব থাকে বা বিষয়টি এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে।

যে কারও মনেই এই প্রশ্ন জাগতে পারে যে, হঠাৎ কেন এই তিনটি দেশ এমন একটি চুক্তিতে এলো? এর একটি সহজ উত্তর হতে পারে দেশগুলোর সক্ষমতা। সৌদি আরবের রয়েছে তেল বিক্রির বিপুল অর্থ। পাকিস্তানের আছে সামরিক কৌশল ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। আর তুরস্ক সামরিক সরঞ্জাম তৈরিতে দারুণ দক্ষ। এই তিনটি দেশ হয়তো ভেবেছে, তারা একটি অভিন্ন নীতিতে একজোট হলে তাদের নিরাপত্তার দিকটি আরও শক্তিশালী হবে।

এই নিরাপত্তা জোটে অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোকে আকৃষ্ট করার জন্য ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগানো হয়েছে। মূলত এই কারণেই চুক্তি সই করার স্থান হিসেবে মুসলমানদের পবিত্র শহর ‘মক্কা’ এবং দিন হিসেবে পবিত্র ‘শুক্রবার’কে বেছে নেওয়া হয়।

পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, ফিলিস্তিনে ইসরাইলি আগ্রাসন এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল মিলে ইরানের ওপর আক্রমণ ও ইরানের পাল্টা আক্রমণে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন একটা যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলায় নিহত হওয়ার পর তাঁর পুত্র মুজতবা খামেনি পিতার স্থলাভিষিক্ত হলে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ নীতি অনেকটা পাল্টে যায়। আলী খামেনি পাল্টা হামলা হিসেবে ইসরাইলমুখী হামলা সীমিত রেখেছিলেন। কিন্তু মুজতবা খামেনি শুধু ইসরাইল নয়, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রাষ্ট্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্য এবং সমরাস্ত্র রাখার স্থানগুলোতেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে জান-মালের ক্ষয়-ক্ষতি করেছে।

ইরানের এই পাল্টা হামলা শুধু মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা বাড়ায়নি; মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি আছে, এমন রাষ্ট্রগুলোকে চিন্তা এবং উদ্বেগের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে বিশেষ করে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর ঘাঁটি লক্ষ্য করার কথা বলে ইসরায়েল দেশটির প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এলাকা দখলে নিয়েছে। ইরান-সমর্থিত ইরাকি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সৌদি আরবে ড্রোন হামলার অভিযোগ রয়েছে। একই সময়ে, এসব গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মুখে পড়েছে।

সৌদি আরবের রয়েছে তেল বিক্রির বিপুল অর্থ। পাকিস্তানের আছে সামরিক কৌশল ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। আর তুরস্ক সামরিক সরঞ্জাম তৈরিতে দারুণ দক্ষ। এই তিনটি দেশ হয়তো ভেবেছে, তারা একটি অভিন্ন নীতিতে একজোট হলে তাদের নিরাপত্তার দিকটি আরও শক্তিশালী হবে।

মধ্যপ্রাচ্যে তুরস্ক ইসরাইলকে তার সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে মনে করে। ইরান-ইসরাইল হামলা-পাল্টা হামলা চলাকালে ইসরাইল তুরস্কের সীমান্ত এলাকায় ড্রোন হামলা চালিয়ে ইরানকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছে। ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ড্রোন হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং তিনি তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলে ভুল-বুঝাবুঝির অবসান ঘটিয়েছেন। তবে ইরানি প্রেসিডেন্ট কাতার, জর্ডান, সৌদি আরবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ঘাঁটিতে হামলার কথা স্বীকার করে হামলার যৌক্তিকতা তুলে ধরেছেন এবং দুঃখপ্রকাশ করেছেন। সৌদি আরবে মার্কিন সেনাঘাঁটি রয়েছে। এ কারণে সেখানেও ইরান হামলা চালাতে পারে, সৌদি আরবকে হয়তো এই ভয়টি তাড়া করছে।

এ কারণে মক্কা চুক্তির বিষয়ে সৌদি আরব প্রধান কুশীলবের ভূমিকা রেখেছে। এমতাবস্থায় এটা অনুমেয় যে, মক্কা চুক্তির দুরভিসন্ধি যাই হোক না কেন, আপাতত ইরানকে সতর্ক বা ভয়ে রাখাই এই চুক্তির অন্যতম একটি লক্ষ্য। আবার অনেকে মনে করেন, মক্কা চুক্তির পরামর্শ ট্রাম্প প্রশাসন থেকে এসেছে। মক্কা চুক্তিকে স্বাগত জানানোর মধ্য দিয়ে এই মনে করার ভিত্তি দৃঢ় হয়েছে।

বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত কোনো সামরিক জোটে যুক্ত হয়নি। স্বাধীনতা-উত্তর কাল থেকেই বাংলাদেশ ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বজায় রেখেছে। বাংলাদেশ ভূরাজনৈতিক শক্তিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করে অর্থনৈতিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে আসছে। দীর্ঘ দিন ধরে বিরাজমান বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতিতে পরিবর্তন ঘটিয়ে আলোচিত এই মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশ যুক্ত হলে তার প্রভাব কেমন হবে-তা নিয়ে ব্যাপক যুক্তিযুক্ত সংলাপের বিষয় আছে। আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সামরিক জোটে যুক্ত হলে শুধু ভারত নয়; পাশাপাশি চীন, ইরান, জাপান, কুয়েত, ওমান, কাতার, রাশিয়াসহ অপরাপর রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক কেমন যাবে, তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনার বিষয়।

এটা সত্য যে, পাকিস্তান-ভারতের চির বৈরিতার ফলে নিরাপত্তার প্রশ্নে এ দুইটি দেশ একে অপরকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে। বাংলাদেশের নিরাপত্তা দেখভাল করা ভারতের মূল উদ্দেশ্য নয়। মক্কা চুক্তিতে যেহেতু পাকিস্তান আছে, সে কারণে ভারত বাংলাদেশের নিরাপত্তামূলক কার্যক্রমে নজরদারি করছে। মূখ্যত পাকিস্তান কেন্দ্রীক চিন্তা থেকে মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদান ভারত ভালোভাবে গ্রহণ করবে না।

নিরাপত্তা ইস্যুর বাইরে বাংলাদেশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষত নানা ধরনের পণ্য এবং চিকিৎসা সেবায় প্রতিবেশী ভারতের ওপর নির্ভরশীল। এই নির্ভরশীলতা কমানোর সক্ষমতা বাংলাদেশের সীমিত। আবার ভারতের বাইরে গিয়ে বাংলাদেশ তার প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করার নীতি গ্রহণ করলে সেক্ষেত্রে আর্থিক ব্যয় বাড়ার ঝুঁকিও রয়েছে। সহজ কথায় ভারতকে উপেক্ষা করার আর্থিক ঝুঁকি বাংলাদেশের নিতে হবে।

বিগত ১৭ বছরে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের শাসনামলে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারতের নিরঙ্কুশ প্রাধান্য ছিল। আওয়ামী লীগ উত্তর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থেকে সেই অবস্থা লোপ পেয়েছে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের সময়েও সেই অবস্থা বিরাজমান। ভারতের নতুন হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর দূতিয়ালিতে কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেলেও দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্কের সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়নি। বাংলাদেশ থেকে ভারতে আশ্রয় নেওয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী- নেতাকর্মীদের ভারতে আশ্রিত অবস্থায় থেকে তাদের রাজনৈতিক বক্তব্য-বিবৃতিতে বাংলাদেশ সরকার ভারতের ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছে।

মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদান করা, না করার ক্ষেত্রে এর প্রয়োজনীয়তা এবং বাস্তবতার বিষয়াবলি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। নতুন একটি বহুপক্ষীয় সামরিক জোটে যুক্ত হয়ে বাংলাদেশ অতিরিক্ত কী অর্জন করবে? তদুপরি এই জোটে যুক্ত হলে বাংলাদেশের ওপর বড় কোনো কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক ঝুঁকি নেমে আসতে পারে কিনা, সেটাও ভাবতে হবে।

ভারত এক্ষেত্রে ধীরে চলার নীতি গ্রহণ করার ফলে দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলেনি। এসব কিছু বিবেচনায় নিয়ে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির মতো কোনো আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কাঠামোয় বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণকে ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে কৌশলগত উদ্বেগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

হারবার্ট এ. সাইমন তাঁর অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ বিহেভিয়র গ্রন্থে রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াগুলোর পর্যায় এবং এর বাস্তবতাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলেছেন। এক্ষেত্রে তিনি ‘সীমাবদ্ধ যৌক্তিকতা’র কথাও বলেছেন। আমরা মনে করি মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদান করা, না করার ক্ষেত্রে এর প্রয়োজনীয়তা এবং বাস্তবতার বিষয়াবলি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। নতুন একটি বহুপক্ষীয় সামরিক জোটে যুক্ত হয়ে বাংলাদেশ অতিরিক্ত কী অর্জন করবে? তদুপরি এই জোটে যুক্ত হলে বাংলাদেশের ওপর বড় কোনো কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক ঝুঁকি নেমে আসতে পারে কিনা, সেটাও ভাবতে হবে।

বাংলাদেশ এমন এক ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় অবস্থান করছে, যেখানে এশীয় ও বৈশ্বিক অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শক্তি যেমন ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আমাদের ভারসাম্যপূর্ণ ও গঠনমূলক কূটনৈতিক ও বাণিজ্য সম্পর্ক রক্ষা করা জরুরি। আমাদের রপ্তানি বাণিজ্য, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ঋণ এবং ভূ-রাজনৈতিক স্থায়িত্ব এই বহুমাত্রিক অংশীদারদের ওপর নির্ভরশীল।

তাই মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক একটি নির্দিষ্ট সামরিক জোটে যোগ দিলে বিশ্বের অন্যান্য বন্ধু রাষ্ট্রগুলো বিষয়টি কীভাবে নেবে, তা গভীরভাবে পর্যালোচনা করা দরকার। এর ফলে আমাদের দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে কি না, তা এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অন্যদিকে অনেকেই মনে করছেন, মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগ দেওয়া নিয়ে অনলাইনে বা গণমাধ্যমে যতই শোরগোল হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ হয়তো এই চুক্তিতে যোগই দিল না! আর বাস্তবে এমনটি ঘটলে অবাক হওয়ারও কিছু থাকবে না।

  • ড. আহমেদ সুমন: গবেষক ও লেখক

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত