বিশ্বকাপের নক্ষত্র-১৮

গোলপোস্টের সামনে দিবু যেন সাক্ষাৎ ‘বাজপাখি’

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ : ০২ জুন ২০২৬, ১৯: ৫৯
কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ের মূল নায়ক ছিলেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। ছবি: স্ট্রিম গ্রাফিক

এমিলিয়ানো মার্তিনেজ গোলপোস্টের দায়িত্বে থাকলে প্রতিপক্ষ স্ট্রাইকারদের জালে বল জড়ানো দুঃসাধ্য হয়ে ওঠে। বর্তমানে ফুটবলের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক এবং পেনাল্টি ঠেকানোর জাদুকর বলা হয় তাঁকে।

ফুটবল বিশ্ব যাঁকে ভালোবেসে ডাকে ‘দিবু’ নামে। ৩৪ বছর বয়সী এমিলিয়ানো জাতীয় এবং ক্লাব- উভয় দলেই ২৩ নম্বর জার্সিতে খেলেন। বর্তমানে তিনি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব অ্যাস্টন ভিলার হয়ে মাঠ মাতাচ্ছেন।

এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে নিয়ে আর্জেন্টিনার মহাতারকা ও অধিনায়ক লিওনেল মেসি বলেছিলেন, দিবু আমাদের দলের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। টাইব্রেকারের সময় সে মাঠে থাকলে আমরা নিশ্চিন্ত থাকি কমপক্ষে দুটি পেনাল্টি সেভ করবে।

মার্তিনেজকে নিয়ে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্ক্যালোনি বলেছিলেন, আমাদের দলের যখন-ই প্রয়োজন হয়, তখন সে তাঁর কাজ করে ফেলে। ফলে দলের ভেতর একটা পজিটিভ এনার্জি সার্কুলেট করে।

ট্রফি ক্যাবিনেট, অর্জন ও পরিসংখ্যান

আর্জেন্টিনার হয়ে অল্প সময়ে ফুটবল বিশ্বের সম্ভাব্য সব বড় ট্রফি জয় করেছেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ, দুটি কোপা আমেরিকা এবং ফিনালিসিমা ট্রফি।

এমিলিয়ানো মার্তিনেজ
এমিলিয়ানো মার্তিনেজ

ব্যক্তিগত অর্জনে তিনি ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপের সেরা গোলরক্ষক হিসেবে ‘গোল্ডেন গ্লাভস’ এবং ফুটবল ইতিহাসের গোলরক্ষকদের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সম্মান হিসেবে টানা দুইবার ‘লেভ ইয়াশিন ট্রফি’ জয় করেন, যা কোনো গোলরক্ষকের জন্য ঐতিহাসিক রেকর্ড।

তিনি আর্সেনালের হয়েও তিনবার ইংলিশ সুপার কাপ ও এফ-এ কাপ জয় করেন। ২০২৪ সালে অ্যাস্টন ভিলার ‘বর্ষসেরা ফুটবলার’ তিনি। ২০২৫-২৬ মৌসুমে অ্যাস্টন ভিলার হয়ে ইউরোপা লিগ জয় করেন দিবু।

এবারের মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে ৩২ ম্যাচে তার দখলে আছে আটটি ক্লিন শিট। ইউরোপা কাপে ১১ ম্যাচে তাঁর ঝুলিতে আছে ছয় ক্লিন শিট। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে তিনি ৫৯ ম্যাচ খেলে ৪১ ম্যাচে কোনো গোল হজম করেননি।

প্রিমিয়ার লিগে অ্যাস্টন ভিলার হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এ পর্যন্ত মার্তিনেজ ২৫৬ ম্যাচ খেলে ৮০ ম্যাচে ক্লিন শিট ধরে রেখেছেন। গানার্সদের হয়ে তিনি ৩৮ ম্যাচ খেলে ১৬ ম্যাচে ক্লিন শিট ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন।

বিশ্বকাপ ইতিহাস ও শিরোপা ধরে রাখার মিশন

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ের মূল নায়ক ছিলেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডস এবং ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে টাইব্রেকারে তাঁর অবিশ্বাস্য পেনাল্টি সেভ ফুটবল ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা। বিশেষ করে ফাইনালের অতিরিক্ত সময়ের শেষ মিনিটে (১২৩তম মিনিটে) ফ্রান্সের কোলো মুয়ানির নেওয়া নিশ্চিত গোলের শটটি যেভাবে তিনি পা দিয়ে আটকে দিয়েছিলেন, সেটিকে ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম সেরা সেভ গণ্য করা হয়।

২০২৬ উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপ মার্তিনেজের ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার গোলপোস্টের অবিসংবাদিত ‘বাজপাখি’ ও এক নম্বর ভরসা এখন দিবু।

আর্সেনালের অবহেলা থেকে বিশ্বজয়

মার্তিনেজের আজকের এই বিশ্বসেরা হওয়ার পেছনের গল্পটা ছিল চরম ধৈর্য ও ত্যাগের। মাত্র ১৭ বছর বয়সে আর্জেন্টিনার এক দরিদ্র পরিবার থেকে লন্ডনের আর্সেনালে যোগ দেন তিনি। দীর্ঘ ১০ বছর আর্সেনালে থাকলেও তাঁকে শুধু বেঞ্চে বসে কাটাতে হয়েছে। কিন্তু দমে যাননি তিনি। ২০২০ সালে বার্নড লেনোর ইনজুরির পর সুযোগ পেয়ে আর্সেনালকে এফএ কাপ জেতান এবং পরে অ্যাস্টন ভিলা ও আর্জেন্টিনা দলে সুযোগ পেয়ে বিশ্ব জয় করেন।

ফুটবল ট্রিভিয়া

বিশ্বের প্রথম গোলরক্ষক হিসেবে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে টানা দুই বছর ব্যালন ডি’অর মঞ্চে সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার ‘লেভ ইয়াশিন ট্রফি’ জয়ের অনন্য কীর্তি গড়েন তিনি।

আর্জেন্টিনার হয়ে অফিশিয়াল পেনাল্টি শুটআউটে তাঁর সেভ করার হার অবিশ্বাস্য রকমের বেশি। তাঁর মনস্তাত্ত্বিক ‘মাইন্ড গেম’ এবং ডান্স ফুটবল দারুণ জনপ্রিয়।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত