টিকাজনিত সংকটের দায় আগের সরকারের: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টাটিকাজনিত যে সংকট হয়েছে, তা মূলত আগের সরকারের আমলে ঘটেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, আগামী ৩ মে থেকে সারা দেশে একযোগে হামের টিকা দেওয়া হবে। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার আগে (২১ মে’র মধ্যে) সব শিশুকে টিকার আওতায় আনা সরকারের লক্ষ্য।
হাম ও লক্ষণ নিয়ে আরও ১০ জনের মৃত্যুদেশে হাম ও রোগটির লক্ষণ নিয়ে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৫ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়ে বলা হয়, রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯৭৪ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে।
রামেক হাসপাতালে হামের উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যুহামের উপসর্গ নিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রোববার দুপুর থেকে আগের ২৪ ঘণ্টায় তাদের মৃত্যু হয়। হামের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর হাসপাতালটিতে এ পর্যন্ত ৩৯১ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৪০ জন মারা গেছে।
হামের প্রাদুর্ভাব সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার বদ্ধপরিকর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সরকার ২০২৬ সালের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং হামজনিত শিশুর মৃত্যু শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে বদ্ধ পরিকর।
অতীতের সরকার টিকা না দেওয়ায় হামের প্রকোপ দেখা দিয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রীঢাকার নবাবগঞ্জে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ইউনিসেফ ও বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শে আজ দেশের ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় এই কর্মসূচির উদ্ধোধন ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী মে মাসের মধ্যে সারা দেশে হাম-রুবেলার টিকা প্রদানের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
দেশের ৩০ উপজেলায় হামের টিকাদান শুরু৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুরা হাম-রুবেলার টিকা পাবে। কেউ আগে পেয়ে থাকলেও চলমান ক্যাম্পেইনে টিকা নিতে পারবে। টিকা প্রদান কার্যক্রম চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
টিকার কোনো ঘাটতি হবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীস্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেছেন, ‘শিশুদের টিকা নিশ্চিত করতে পারলে আমরা নিরাপদ থাকব। দেশের শিশুরা সুস্থ ও নিরাপদ থাকবে।’
৩০ উপজেলায় টিকাদান রোববার, যারা পাবে হামের টিকাহাম মোকাবিলায় রোববার সকাল ৯টা থেকে ১৮টি জেলার উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ৩০ উপজেলা ও পৌরসভায় জরুরি হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। এর আওতায় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী সব শিশুকে টিকা দেওয়া হবে।
হাম ও লক্ষণ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যুদেশে হাম আক্রান্ত হয়ে ও রোগটির লক্ষণ নিয়ে আরও ছয়জন মারা গেছে। এদের মধ্যে হাম আক্রান্ত হয়ে দুজন ও উপসর্গ নিয়ে বাকিদের মৃত্যু হয়েছে।
বিএমইউতে ৮ শয্যার হাম ওয়ার্ড ও স্ক্রিনিং সেন্টার চালুদেশে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) হামে আক্রান্ত রোগীদের জন্য একটি ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে।
হামের প্রাদুর্ভাব: জরুরি টিকা কার্যক্রম শুরু রোববারদেশে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকা কার্যক্রম শুরু করছে সরকার। আগামীকাল রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে একযোগে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন হবে।
হামের টিকাদান শুরু রোববার, তিন ধাপে পরিকল্পনার পরামর্শমার্চ মাসেই সারা দেশে হামে অর্ধশতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে, আক্রান্ত ছাড়িয়েছে সাত শর বেশি। হাসপাতালে শয্যা ও আইসিইউ সংকটে দিশাহারা রোগীর স্বজনেরা। এমন পরিস্থিতিতে রোববার থেকে দেশব্যাপী হামের টিকাদান কর্মসূচি শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
হামের আকস্মিক প্রকোপ কেন আর কী করা যায়হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে একটি রোগ। একজন আক্রান্ত হলে তার থেকে খুব সহজেই ১২-১৮ জনের মাঝে এটি ছড়িয়ে পড়তে পারে। হাম মূলত শ্বাসতন্ত্র বা রেসপিরেটরি সিস্টেমকে আক্রমণ করে শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাসের আক্রমণে শরীরের নিজস্ব প্রতিরোধ ক্ষমতা যখন কমে যায়, তখন সেকেন্ডারি সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বাড়িয়ে দেয়।
হামের জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু রোববার: স্বাস্থ্যমন্ত্রীদেশে হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় আগামী রোববার থেকে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। বুধবার (১ এপ্রিল) সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
হাম আবিষ্কারের গল্প ও তার বারবার ফিরে আসাপৃথিবীর ইতিহাসে সংক্রামক ব্যাধির সঙ্গে মানুষের লড়াই অনেক পুরোনো। বিভিন্ন যুগে নানা রোগ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব রোগে প্রাণহানি ঘটেছে কোটি কোটি মানুষের। চতুর্দশ শতাব্দীতে ‘ব্ল্যাক ডেথ’ বা প্লেগ রোগে ইউরোপের বিপুল সংখ্যক মানুষ মারা যায়। এরপর গুটিবসন্ত, কলেরা ও স্প্যানিশ ফ্লু পৃথিবীতে ব্যাপক ধ্বং
যেভাবে হামমুক্ত হলো ভুটান-শ্রীলঙ্কাদক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ায় একসময় হাম ছিল শিশুমৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। এক সময় এই সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগটি বহু শিশুর জীবন কেড়ে নিয়েছে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি টিকাদান কর্মসূচি, শক্তিশালী স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও কার্যকর নজরদারির মাধ্যমে আজ সেই চিত্র বদলে গেছে।
বাড়ছে হামের রোগী, যা জানা জরুরিসম্প্রতি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। হাসপাতালগুলোতে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতিনিয়তই বাড়ছে। হাম বায়ুবাহিত ছোঁয়াচে একটি রোগ। একজন আক্রান্ত ব্যক্তি খুব সহজেই হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে তার চারপাশের অসংখ্য মানুষকে সংক্রমিত করতে পারে।