
চৌদ্দ বছর আগে, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১২ তারিখে আমি ‘মোটিভেশন টু লার্ন চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ’ শিরোনামে একটি নিবন্ধ লিখেছিলাম। সেখানে আমি বলেছিলাম, বাংলা, ইংরেজি ও চীনা—এই তিনটি ভাষা জানা বাংলাদেশের মানুষের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, ব্যবসা ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু তখন কোনো সংবাদপত্রই নিবন্ধটি প্রকাশ করতে রাজি হয়নি—ইংরেজিতেও নয়, বাংলাতেও নয়।
আজ বিষয়টি উল্লেখ করছি কোনো অভিযোগ করার জন্য নয়। বরং গত ১৪ বছরে পরিস্থিতি কতটা বদলেছে, সেটি তুলে ধরতেই। ২০১২ সালে যে ধারণাটি হয়তো অনেকের কাছে কিছুটা আগাম মনে হয়েছিল, আজ সেটিই বাংলাদেশের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান নীতির সঙ্গে ক্রমেই বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে।
চীনা ভাষার সঙ্গে আমার নিজের সম্পর্ক অবশ্য আরও পুরোনো। ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত অবস্থায় চীনা ভাষা শেখার জন্য আমি চীনে গিয়েছিলাম। ২০০৮ সালে অবসর নেওয়ার পর থেকে আমার সময়ের একটি বড় অংশ চীনা ভাষা শিক্ষা এবং বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের প্রসারে ব্যয় করছি। এ পর্যন্ত বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ৩,৫০০-এর বেশি শিক্ষার্থীকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চীনা ভাষা শেখানোর সুযোগ পেয়েছি।
এই দীর্ঘ সময়ে দেখেছি, আমার অনেক শিক্ষার্থী চীনা ভাষা কাজে লাগিয়ে চাকরি পেয়েছেন—অনেক ক্ষেত্রে তুলনামূলক ভালো বেতনেও। কেউ ব্যবসায়, কেউ অন্য পেশায় ভাষাটি সফলভাবে ব্যবহার করেছেন। আবার অনেকে উচ্চশিক্ষার জন্য চীনেও গেছেন। এসব অভিজ্ঞতা থেকে আমার বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়েছে যে চীনা ভাষা শুধু একটি অতিরিক্ত ভাষা নয়; এটি একটি বাস্তব ক্যারিয়ার দক্ষতা, বিশেষ করে বাংলাদেশের মানুষের জন্য।
বিশ্বের বর্তমান চিত্রও এ কথার পক্ষে যায়। চীনা ভাষা এখন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি শেখা বিদেশি ভাষাগুলোর একটি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে ২০ কোটির বেশি মানুষ চীনা ভাষা শিখছেন। বিশ্বের কয়েক ডজন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায়ও চীনা ভাষা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। চীনা ভাষার দক্ষতা যাচাইয়ের এইচএসকে পরীক্ষার নেটওয়ার্কও বিশ্বের অনেক দেশে বিস্তৃত হয়েছে। অর্থাৎ চীনা ভাষা এখন আর শুধু কূটনীতিক, চীন-বিষয়ক বিশেষজ্ঞ বা গবেষকদের ভাষা নয়। শিক্ষা, চাকরি, ব্যবসা ও যোগাযোগের প্রয়োজনেও মানুষ এখন এই ভাষা শিখছে।
ভাষা যখন দক্ষতা
বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। চীন ইতিমধ্যে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন অংশীদার। অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, নির্মাণ, উৎপাদন, টেলিযোগাযোগ, পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে চীনা কোম্পানিগুলো কাজ করছে। এসব কার্যক্রম যত বাড়ছে, চীনা ভাষায় যোগাযোগ করতে সক্ষম বাংলাদেশির প্রয়োজনও তত বাড়ছে।
২০২৬ সালের ২৫ আগস্ট জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) আয়োজিত চীনা ভাষার দক্ষতার মানদণ্ড এবং কোর্স অ্যাক্রেডিটেশন ডকুমেন্ট বিষয়ে ভ্যালিডেশন কর্মশালায় উপস্থিত থাকার সুযোগ আমার হয়েছিল। সেখানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের বক্তব্য আমি সরাসরি শুনেছি।
তাঁর বক্তব্যের একটি বিষয় আমার কাছে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে এক লাখের বেশি মানুষ চীনা ভাষা শিখছেন। একই সঙ্গে তিনি চীনা ভাষার দক্ষতার সঙ্গে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক দক্ষতা যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন, চীনা ভাষায় দক্ষ বাংলাদেশিরা শুধু বাংলাদেশে চীনা কোম্পানিতে নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চীনা প্রকল্পেও কাজ করতে পারেন।
এটি আমাদের সামনে বড় একটি সম্ভাবনা তৈরি করছে। কেননা বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বড় জনশক্তি সরবরাহকারী দেশ। আমাদের এখন লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু কর্মী বিদেশে পাঠানো নয়; বরং দক্ষ কর্মী বিদেশে পাঠানো, যাঁদের সঙ্গে একটি অতিরিক্ত আন্তর্জাতিক ভাষার দক্ষতাও থাকবে।
একজন বাংলাদেশি টেকনিশিয়ান, প্রকৌশলী, ইলেকট্রিশিয়ান, নির্মাণ তত্ত্বাবধায়ক, তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী, আতিথেয়তা খাতের কর্মী কিংবা ব্যবসায়ী নির্বাহী যদি চীনা ভাষায় যোগাযোগ করতে পারেন, তাহলে বাংলাদেশে এবং বিদেশে চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাজের সুযোগে তিনি আরও ভালোভাবে প্রতিযোগিতা করতে পারবেন।
এর সঙ্গে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ বা বিআরআই এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেরও সম্পর্ক রয়েছে। চীনা কোম্পানিগুলো যেখানে অবকাঠামো, শিল্প, লজিস্টিকস বা অন্যান্য প্রকল্পে কাজ করছে, সেখানে চীনা ও স্থানীয় পেশাজীবীদের মধ্যে যোগাযোগ প্রয়োজন। ফলে চীনা ভাষায় দক্ষ বাংলাদেশি পেশাজীবীদের জন্য একটি বড় আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থান বাজার তৈরি হতে পারে। এমনকি বাংলাদেশ বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য চীনা ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণের একটি আঞ্চলিক কেন্দ্র হওয়ার কথাও ভাবতে পারে।
এখন এই বিষয়ে সরকারি পর্যায়েও একটি গতি তৈরি হয়েছে। ২০২৬ সালের জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের সময় শিক্ষা ও কারিগরি সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ম্যান্ডারিনকে বাংলাদেশে তৃতীয় ভাষা হিসেবে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ওই সফরে স্বাস্থ্যসেবাসহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী ড. এ. এন. এম. এহসানুল হক মিলনও তৃতীয় ভাষা শিক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের বিশ্বমানের প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে গড়ে তোলার গুরুত্বের কথা বারবার বলেছেন। মে মাসে অনুষ্ঠিত চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা সহযোগিতা ফোরামে তিনি তৃতীয় ভাষা শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন এবং উল্লেখ করেন যে চীনা ভাষা শিক্ষা আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
সম্প্রতি তাঁর চীন সফরের সময় বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিনিধিদল কারিগরি শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং চীনা ভাষা শিক্ষা বিষয়ে আরও সহযোগিতার সম্ভাবনাও অনুসন্ধান করেছে। এসব ঘটনা ২০১২ সালের পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করলে একটি বড় পরিবর্তন চোখে পড়ে। তখন বিষয়টি মূলত কিছু ব্যক্তি ও সংগঠনের প্রচেষ্টায় সীমাবদ্ধ ছিল। এখন এটি ধীরে ধীরে নীতিগত আলোচনার অংশ হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশকে অবশ্য শূন্য থেকে শুরু করতে হবে না। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট, বেসরকারি একাডেমি এবং সামাজিক সংগঠন বহু বছর ধরে চীনা ভাষা শিক্ষা নিয়ে কাজ করছে।
বেসরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগগুলোর মধ্যে ঝং মেং চাইনিজ একাডেমি (জেডএমসিএ) আবাসিক, অফলাইন ও অনলাইন বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে চীনা ভাষা শিক্ষা দিয়ে আসছে। ই দাই ই লু চাইনিজ একাডেমি এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও চীনা ভাষা শেখার প্রসারে অবদান রাখছে।
উই স্পিক চাইনিজ ক্লাব বাংলাদেশ লিমিটেড (ডব্লিউএসসিসি) দীর্ঘদিন ধরে চীনা ভাষা শিক্ষা, জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ, দোভাষী সেবা, শিক্ষা কার্যক্রম এবং চীন-সম্পর্কিত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রসারে কাজ করছে। সংগঠনটির সদস্যরাও কর্মসংস্থান, ব্যবসা এবং চীনে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে সহায়তা করে আসছেন। এসব উদ্যোগ অবশ্যই উৎসাহ পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু আমার মনে হয়, বাংলাদেশের এখন প্রয়োজন আরও বড় এবং সমন্বিত একটি জাতীয় উদ্যোগ।
এশিয়া ও পশ্চিমের অভিজ্ঞতা
আমাদের এশীয় প্রতিবেশীদের অভিজ্ঞতা থেকে শেখারও অনেক কিছু আছে। ভারত নির্বাচিত স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ম্যান্ডারিন চালু করেছে এবং চীনের সঙ্গে সম্পর্কের নানা জটিলতা থাকা সত্ত্বেও চীনা ভাষার বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তান বিশ্ববিদ্যালয় ও কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে চীনা ভাষার বিভিন্ন কর্মসূচি চালু করেছে, যার মধ্যে ডিগ্রি ও পেশাভিত্তিক কোর্সও রয়েছে।
শ্রীলঙ্কা স্কুল পর্যায়ে চীনা ভাষা শিক্ষা ও শিক্ষক প্রশিক্ষণ সম্প্রসারিত করেছে। নেপাল ও মিয়ানমারেও পর্যটন, শিল্প ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে চীনা ভাষা শেখাকে ক্রমেই যুক্ত করা হচ্ছে। থাইল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা ও উচ্চশিক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত চীনা ভাষা শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে।
পশ্চিমা দেশগুলোর অভিজ্ঞতাও আমাদের বিবেচনায় রাখা উচিত। বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন পশ্চিমা দেশের স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও বৈশ্বিক গুরুত্ব বিবেচনায় ম্যান্ডারিন শেখাকে উৎসাহিত করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভূরাজনৈতিক, জনমিতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক নানা কারণে কিছু প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তির ধরন পরিবর্তিত হয়েছে। কিন্তু এতে চীনা ভাষার মৌলিক গুরুত্ব কমে যায় না।
বাংলাদেশের জন্য এখান থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার—ভাষা শিক্ষা তখনই বেশি কার্যকর ও টেকসই হয়, যখন সেটিকে বাস্তব শিক্ষা, পেশা ও অর্থনৈতিক সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করা যায়।
আরেকটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হলো মেডিকেল ট্যুরিজম বা চিকিৎসা পর্যটন। বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে চিকিৎসা সহযোগিতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য আরও বেশি বাংলাদেশি চীনে যেতে পারেন। চীনা ভাষায় দক্ষ বাংলাদেশি চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল কো-অর্ডিনেটর, দোভাষী এবং পর্যটন পেশাজীবীরা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। যোগাযোগ যত সহজ হবে, চিকিৎসার জন্য বিদেশ ভ্রমণও তত স্বস্তিদায়ক ও কার্যকর হবে।
অনেকে এখনো মনে করেন, চীনা ভাষা শেখা খুব কঠিন। আমি তা মনে করি না। ১৯৮০-এর দশকে যখন আমি প্রথম চীনা ভাষা শিখেছিলাম, তখন শেখার উপকরণ ছিল খুবই সীমিত। আজ পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইন্টারনেট, স্মার্টফোন, অনলাইন ক্লাস, ডিজিটাল অভিধান, পিনইন, ভিডিও পাঠ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম চীনা ভাষা শেখাকে অনেক সহজলভ্য করেছে।
আজ একজন শিক্ষার্থী প্রায় যেকোনো জায়গা থেকে স্থানীয় চীনা ভাষাভাষীদের কথা শুনতে পারেন, উচ্চারণ অনুশীলন করতে পারেন, চীনা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন এবং বিভিন্ন ধরনের শিক্ষাসামগ্রী ব্যবহার করতে পারেন।
অবশ্যই ম্যান্ডারিন শেখার জন্য সময়, মনোযোগ ও পরিশ্রম দরকার। কিন্তু কয়েক দশক আগের তুলনায় আজ এটি শেখার সুযোগ অনেক বেশি।
বাংলাদেশের কী করতে পারে?
দেশের তৃতীয় ভাষা শিক্ষার কৌশলের মধ্যে চীনা ভাষাকে যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। শিক্ষার্থীদের এমন সুযোগ দিতে হবে, যাতে তারা ভাষা শেখার সঙ্গে ভবিষ্যৎ পেশাকেও যুক্ত করতে পারে। চীনা ভাষা শুধু আলাদা একটি বিষয় হিসেবে নয়, পেশাগত দক্ষতার সঙ্গেও শেখানো যেতে পারে—চীনা ভাষা ও প্রকৌশল, চীনা ভাষা ও নির্মাণ, চীনা ভাষা ও পর্যটন, চীনা ভাষা ও স্বাস্থ্যসেবা, চীনা ভাষা ও তথ্যপ্রযুক্তি, চীনা ভাষা ও ব্যবসা।
আমাদের জরুরিভাবে আরও প্রশিক্ষিত বাংলাদেশি চীনা ভাষার শিক্ষক, স্বীকৃত সনদব্যবস্থা, আধুনিক শিক্ষাসামগ্রী, বৃত্তি, বিনিময় কর্মসূচি এবং চীনে ভাষা শেখার বাস্তব সুযোগ প্রয়োজন।
চীন শিক্ষক, শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, বৃত্তি, ডিজিটাল শিক্ষাসামগ্রী, ভাষা ল্যাবরেটরি, পাঠ্যক্রম উন্নয়ন এবং চীনা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশের শিক্ষা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—চীনা ভাষা শেখার একটি বাস্তব গন্তব্য থাকতে হবে। সেই গন্তব্য হতে পারে একটি চাকরি, একটি বৃত্তি, একটি ব্যবসায়িক সুযোগ, একটি পেশাগত যোগ্যতা অথবা চীনের সঙ্গে একটি অর্থবহ যোগাযোগ।
চীন ইতিমধ্যে একটি বৈশ্বিক শক্তি। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও শিক্ষাক্ষেত্রে দেশটির প্রভাব ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে। চীনা ভাষা ইংরেজির বিকল্প নয়, হওয়াও উচিত নয়। বরং বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি চীনা ভাষা বাংলাদেশের মানুষের জন্য বিশ্বের দিকে তাকানোর আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ জানালা খুলে দিতে পারে।
চৌদ্দ বছর আগে ‘মোটিভেশন টু লার্ন চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ’ শিরোনামের আমার নিবন্ধটি প্রকাশ করার জন্য কোনো সংবাদপত্রকে রাজি করাতে পারিনি। আজ আমি আশা করি, সম্পাদক ও পাঠকেরা বিষয়টিকে কিছুটা ভিন্নভাবে দেখবেন—চীনা ভাষাকে শুধু চীনা ভাষা হিসেবে প্রচার করার জন্য নয়; বরং এর সঙ্গে যুক্ত সুযোগগুলো এখন ক্রমেই বাস্তব হয়ে উঠছে বলেই।
বাংলাদেশের জন্য প্রশ্নটি এখন আর আমাদের চীনা ভাষা শেখা উচিত কি না—এটি নয়। প্রশ্ন হলো, আমরা কি এখনই পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত—নাকি আরও ১৪ বছর অপেক্ষা করব?
- লেখক: অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মকর্তা; শিক্ষক, লেখক ও প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক, উই স্পিক চাইনিজ ক্লাব বাংলাদেশ লিমিটেড (ডাব্লিউএসসিসি)
.png)

-7c29dd-256x144.webp)





-847c68-256x144.webp)
