পয়লা বৈশাখের শোভাযাত্রা: আনন্দ উৎসব থেকে প্রতিবাদবছর ঘুরে আবারও ফিরে এলো বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। আর এই উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ‘শোভাযাত্রা’। রঙিন মুখোশ, বিশালাকৃতির প্রতীকী ভাস্কর্য, ঢাকের তালে তালে মানুষের উচ্ছ্বাস—সব মিলিয়ে এটি যেন এক বর্ণিল সাংস্কৃতিক আয়োজন।
বাংলা একাডেমিতে ৭ দিনব্যাপী ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও বাণিজ্যের মিলনমেলা‘বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩’ উপলক্ষে রাজধানীর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে সাত দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা, যেখানে ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও বাণিজ্যের এক অনন্য সমন্বয় ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে বাংলা একাডেমি ও বিসিকের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলার উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
পয়লা বৈশাখ যে বার্তা দেয়বাংলা নববর্ষ নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়; গভীর এক সামাজিক চেতনা এবং ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারের ধারক, বাঙালির আত্মপরিচয়ের যথাযথ প্রকাশ। প্রতি বছর পয়লা বৈশাখ আমাদের মনে করিয়ে দেয় আমাদের শিকড়, আর কোথায় আমাদের মিলনস্থল।
বন্ধ রাস্তায় পণ্যের পসরা, মৌসুমি বিক্রেতাদের ‘বৈশাখী মেলা’সড়ক বন্ধ, তাতে কী! বন্ধ সড়কের দুই ধারে নানা পণ্যের পসরা সাজানো। আগ্রহ নিয়ে সেসব পণ্য নেড়েচেড়ে দেখছেন পথচারীরা। কেউ কেউ কিনছেন দু-একটি পণ্য। চরকি, খেলনা টমটম, ময়ূর, একতারা, ডুগডুগি আর তালপাতার হাতপাখাসহ নানা পণ্যে শিশুদের পাশাপাশি বড়দেরও আগ্রহ দেখা গেল।
পয়লা বৈশাখ যেভাবে ‘করপোরেট উৎসব’ হলোপয়লা বৈশাখ একসময় ছিল মাঠের গন্ধমাখা এক উৎসব। নতুন ফসল, হালখাতা, গ্রাম্য মেলা—সব মিলিয়ে একটা সহজ, প্রাণের আয়োজন। এখন সেই বৈশাখ ঢুকে পড়েছে শহরের ব্যস্ত রাস্তায়, শপিং মলের ভিড়ে, করপোরেট ব্র্যান্ডিংয়ের আলোয়। বদলটা হঠাৎ হয়নি, ধীরে ধীরে হয়েছে। কিন্তু প্রশ্নটা থেকেই যায়—এই বদলে আমরা কী পেলাম, আর কী হারালাম
নববর্ষে আবহাওয়ায় দুই রূপ: তিন অঞ্চলে কালবৈশাখীর শঙ্কা, অন্যদিকে তাপপ্রবাহআজ পয়লা বৈশাখ, বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন। বছরের প্রথম দিনই দেশের আবহাওয়ায় যেন বৈশাখের চিরায়ত দুই রূপ বিরাজ করছে। একদিকে কয়েকটি অঞ্চলে কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর, অন্যদিকে দেশের কয়েকটি জেলা ও একটি বিভাগের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু তাপপ্রবাহ।
মেট্রো স্টেশনে আটকে গেল বৈশাখী শোভাযাত্রার মোটিফপহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে বের হওয়া বৈশাখী শোভাযাত্রার চারটি মোটিফ উচ্চতার কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেট্রোরেল স্টেশনে আটকে গেছে।
এটি একেবারেই বাংলাদেশের নিজস্ব আয়োজন: রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যাসব জরা ও ব্যর্থতাকে পেছনে ফেলে নতুন বছরে নতুন প্রত্যয় নিয়ে রাজধানীর ধানমন্ডিতে রবীন্দ্র সরোবরে উদযাপিত হলো ‘হাজারও কণ্ঠে বর্ষবরণ-১৪৩৩’।
নামের বিতর্ক ছাপিয়ে গণতন্ত্র পুনরুত্থানের বার্তায় ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’নাম পরিবর্তনকে ঘিরে বিতর্ক থাকলেও আয়োজনে ছিল না কোনো মৌলিক বিচ্যুতি; বরং অতীতের মঙ্গল শোভাযাত্রার ধারাবাহিকতায় রঙ, মোটিফ ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে ভরপুর এক বর্ণাঢ্য উপস্থাপনাই উঠে আসে।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নির্ভয়ে গান গাওয়ার নিশ্চয়তা চায় ছায়ানটপহেলা বৈশাখের (১৪ এপ্রিল) ভোরে রমনার বটমূলে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে গিয়ে ছায়ানট সভাপতি ড. সারওয়ার আলী সংস্কৃতির পথকে কণ্টকমুক্ত রাখা এবং শঙ্কামুক্ত পরিবেশে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রমনা বটমূলে গান-কবিতায় বর্ষবরণভোরের সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর রমনা বটমূলে শুরু হয় ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে সম্মেলক কণ্ঠে ‘জাগো আলোক-লগনে’ গানের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-কে স্বাগত জানানো হয়। জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শেষ হয় প্রায় দুই ঘণ্টারও বেশি সময়ের এই আয়োজন।
ভোলায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার, অবাধে বিক্রিভোলায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে জাল ফেলছেন জেলেরা। ঘাটে হাঁকডাক দিয়ে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। দাম স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি।