একাত্তর নাকি চব্বিশইতিহাসকে বাইনারি করার বিপজ্জনক শর্টকাটসম্প্রতি কুমিল্লার দেবীদ্বারে এক নির্বাচনী প্রচারণায় দেওয়া বক্তব্যে গণঅভ্যুত্থানের আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, ‘বাংলাদেশকে জন্ম দিয়েছে একাত্তর। এটা বিতর্কের ঊর্ধ্বে। একইসঙ্গে একাত্তর ও চব্বিশকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়ারও কোনো সুযোগ নেই। দুইটাই স্বতন্ত্র।’
দায় ও দরদের সমাজচব্বিশের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান ছিল এক দানবীয় শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে। যেটি মেগা প্রকল্প দিয়ে বছরের পর বছর উন্নয়নের ফাঁকা বুলিকে ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল। এই ভিত্তি তৈরি করতে গিয়ে, ভেতরে ভেতরে সমাজ থেকে, সাধারণ নাগরিক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল শাসক।
প্রতিরক্ষা শিল্পাঞ্চল ও ফোর্সেস গোল ২০৩০: বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা কূটনীতিতে বড় পরিবর্তনের পদধ্বনিবাংলাদেশে প্রতিরক্ষা খাতের আধুনিকায়নে ২০০৯ সালে গ্রহণ করা হয়েছিল দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং প্রযুক্তির পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ কেবল সরঞ্জাম কেনায় সীমাবদ্ধ না থেকে ‘প্রতিরক্ষা শিল্পাঞ্চল’ গড়ে তোলার মাধ্যমে সামরিক স্বনির্ভরতার এক
ইনক্লুসিভ বাংলাদেশবহুত্ববাদ ও বৈচিত্র্যের ঐক্য থেকে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রের সন্ধানেইতিহাসের চাকা যখন প্রবল বেগে ঘোরে, তখন কিছু পুরোনো শব্দ নতুন অর্থ নিয়ে আবির্ভূত হয়। ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের সেই রক্তঝরা দিনগুলো বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যাকরণই পাল্টে দিয়েছে।
ফ্যাসিবাদ ও ফ্যাসিস্ট‘বাংলাদেশ ২.০’-এ ‘জুলিয়াস সিজারের’ ক্যাসিয়াস১৫৯৯ সাল। বিখ্যাত নাট্যকার উইলিয়াম শেক্সপিয়র লিখলেন রোমের বিখ্যাত বীর জুলিয়াস সিজারের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নাটক ‘জুলিয়াস সিজার’। তৎকালীন রোমান রাষ্ট্রব্যবস্থা ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বকে তুলে ধরতে মূলত রাজনৈতিক-ঐতিহাসিক এই নাটকটির বিশ্বসাহিত্যে অবদান রয়েছে।
ন্যারেটিভবয়ানের বিবর্তন: বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক ও রাজনৈতিক কুরুক্ষেত্র২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, বাংলাদেশের ইতিহাসে কেবল সরকারের পতন বা শেখ হাসিনার পলায়নের দিন হিসেবে চিহ্নিত নয়। দিনটি দীর্ঘস্থায়ী ‘একক বয়ান’ বা ‘মনোলিথিক ন্যারেটিভ’-এর ফাটল ও পতনের দিন।
দেরিতে হলেও আহ্বানটি তাৎপর্যবহবাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর কর্মী-সমর্থকদের গণভোটে ‘হ্যাঁ’-র পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাতে গিয়ে দেরি করে ফেললেন কিনা, সে প্রশ্ন উঠেছে রাজনীতিসচেতন মহলে। নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর মুহূর্ত থেকেই তিনি দলের এ অবস্থান স্পষ্ট করতে পারতেন বলে মত রয়েছে।
ইলেকশন না সিলেকশন: ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি নাকি নতুন ভোরসামনে নির্বাচন। জুলাই-আগস্টের এক রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র মেরামতের এক বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে। দীর্ঘ দেড় দশকের একদলীয় ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার পর জাতি এখন এক বিশেষ সময়ে দাঁড়িয়ে আছে। সেখানে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি হলো—আসন্ন নির্বাচন কি কেবল ‘আনুষ্ঠানিকতা’র নির্বাচন হবে, নাকি জনগণের ইচ্ছার প্রকৃত প্র
জনতার মালিকানা পুনরুদ্ধার ও গণঅভ্যুত্থানজুলাই অভ্যুত্থান কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হলেও এর গর্ভে সুপ্ত ছিল রাষ্ট্রকাঠামো ভেঙে নতুন করে গড়ার এক তীব্র আকাঙ্ক্ষা। রাজনৈতিক দর্শনের পরিভাষায় একে বলা যায় ‘কনস্টিটিউট পাওয়ার’ বা গঠনমূলক ক্ষমতার জাগরণ।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীর ‘সিলিং’ ভাঙার লড়াইআসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নারী প্রসঙ্গ এখন সবচেয়ে সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে। ‘নারী নেতৃত্ব হারাম’ বা ‘নারীর কাজ ঘর সামলানো’র মতো বহুচর্চিত বিষয়গুলো এখন আরও বিস্তৃত হয়ে ‘কর্মজীবী নারীরা বেশ্যা’ পর্যন্ত গড়িয়েছে।
জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ : ইশতেহারে জন-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন চাইনির্বাচন সামনে এলেই সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি আলোচিত হয় সেটি হলো রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহার বা প্রতিশ্রুতি। একইভাবে আগামী জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলো ইতিমধ্যে তাদের প্রচার এবং জনগণের জন্য তাদের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরতে শুরু করেছে।
জামায়াত আমিরের পোস্ট: চক্রান্ত নাকি আদর্শিক প্রতিফলনঅনেকে মনে করেন যে এমন প্রেক্ষাপটে কোনো নারী বিদ্বেষী মন্তব্য নিয়ে ডিজিটাল প্রমাণের ফরেনসিক বিশ্লেষণ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর হ্যাকিংয়ের দাবিকে সত্য বলে মেনে নেওয়া কঠিন।
প্যারোল বা জামিন: সাদ্দামের ক্ষেত্রে যা ঘটেছেঅবশেষে সাদ্দাম ফিরলেন তার প্রিয়তমা স্ত্রীর কাছে। ফিরলেন ৯ মাস বয়সী পুত্র সেজানের কাছে। কিন্তু ফিরতে হলো তাদের কবরের কাছে। দেশবাসীকে ছুঁয়েছে তাঁর মায়ের আক্ষেপ—‘এখন জামিন হওয়া আর না হওয়া সমান। বাড়ি এসে দেখবে ছেলে–বউয়ের কবর। তাহলে এই জামিন দিয়ে কী হবে?’
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এআই সন্ত্রাস: গণতন্ত্রের জন্য বিপদঢাকার একটি চায়ের দোকানে পাশাপাশি বসে তিনজন মধ্যবয়সী মানুষ মোবাইলের পর্দায় একটি ভিডিও দেখছিলেন। স্ক্রিনে একজন পরিচিত রাজনৈতিক নেতা কথা বলছেন। তার গলার আওয়াজ, মুখের ভাব, এমনকি বলার ঢং পর্যন্ত সম্পূর্ণ আসল নেতার মতো। কিন্তু কথার বিষয়বস্তু? এসব তিনি কখনো বলেননি। ভিডিওটি বানানো হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধি
সামনে নির্বাচন ও গণমাধ্যমের অগ্নিপরীক্ষাগণমাধ্যম চেষ্টা করেছে, কিন্তু তাদের সীমাবদ্ধতা ছিল পাহাড়সম। গণমাধ্যমের নিজস্ব ব্যবসায়িক স্বার্থ, মালিকপক্ষের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং সরকারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ চাপ সবসময়ই ছিল। সব ক্ষেত্রে সেই চাপ মোকাবিলা করা সম্ভব হয় না।
ইনবক্সের বাইরে-৪রুটি, নীতি এবং এক হাজার টাকার গণতন্ত্রগণতন্ত্রের মহোৎসবে আজমলের কাছে ১ হাজার টাকার মূল্য অনেক বেশি। শোনা যায়, প্রাচীন গ্রিসের এথেন্সে যখন গণতন্ত্রের চর্চা হতো, তখন নাগরিকরা তাদের কাজ ফেলে ভোট দিতে যেত বলে তাদের নাকি রাষ্ট্র ক্ষতিপূরণ দিত। আজমলের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কেউ নেই। তাঁর কাছে ব্যালট পেপারের চেয়ে দুই কেজি চালের দাম অনেক বেশি বাস্তব।
‘হ্যাঁ’-‘না’র রাজনীতি: ঐক্যের ভেতরে বিভাজন কেনগণভোট হওয়ার কথা ছিল জাতীয় ঐকমত্যের উৎসব। ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনীতির বিজয়গাথা। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। গণভোট এখন নতুন বিভাজনের নাম। প্রশ্ন উঠেছে। কে কার পক্ষে? কে কার বিপক্ষে? আরেকটি প্রশ্ন আরও গভীর। পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তি এবং যারা নতুন ফ্যাসিবাদী শক্তি হয়ে উঠতে চায়-তারা কি সত্যিই ‘না’ ভোটকে কেন্দ্র কর