সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে বব মার্লে বেঁচে থাকলে কী করতেনআজ ১১ মে বব মার্লের মৃত্যুদিন। তিনি আজ বেঁচে থাকলে কি বিপ্লবী শিল্পীই থাকতেন? নাকি আধুনিক বাজারব্যবস্থা তাঁকেও স্রেফ একটি ‘ব্র্যান্ডে’ পরিণত করত? এই প্রশ্নটা বড্ড অস্বস্তিকর, কিন্তু জরুরি।
মান্টো: যিনি সমাজের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিলেনসাদাত হাসান মান্টোর জন্মবার্ষিকীতে তাঁকে স্মরণ করা প্রাসঙ্গিক এ কারণে যে, তিনি পাঠককে স্বস্তি দেওয়ার জন্য বাস্তবতাকে কখনো হালকাভাবে উপস্থাপন করেননি।
জাভেদ হুসেনের অনুবাদআমার কিছু বলার আছে—সাদাত হাসান মান্টোমাসিক পত্রিকা ‘আদব-ই-লতিফ’-এর ১৯৪৩ সালের বার্ষিক সংখ্যায় আমার একটা গল্প ছাপা হয়েছিল। নাম ‘কালি সালওয়ার’। কিছু মানুষ একে ভুল বুঝেছেন। তাঁদের সেই ভুল ধারণা দূর করার জন্য আমি এই প্রবন্ধটি লিখছি।
‘কোথায় আছে, কেমন আছে মা’প্রিন্স মাহমুদের ব্যক্তিগত শোক যেভাবে জেমসের কণ্ঠে সবার হয়ে উঠলআজ মা দিবস। ক্যালেন্ডারের পাতায় দিনটি একটি বিশেষ তারিখ মাত্র। কিন্তু বাংলা গানের ভুবনে ‘মা’ শব্দটি নিয়ে যখনই কোনো হাহাকার বা আবেগের বিস্ফোরণ ঘটে, তখনই একটি গানের সুর অজান্তেই কানে বেজে ওঠে। গিটারের সেই চিরচেনা আর্তনাদ আর জেমসের ভরাট কণ্ঠের গান—‘মা’।
রুমির জনপ্রিয়তা বনাম রবীন্দ্রনাথের আড়ালআজ এমন একজনের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী, যিনি দুটি দেশের জাতীয় সংগীত লিখেছেন। নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন। ২৫ কোটি মানুষের কাছে তিনি প্রাসঙ্গিক। কখনো বা পূজনীয়। অথচ বাংলা ভাষাভাষীদের বাইরে কাউকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কথা জিজ্ঞেস করে দেখুন। বড়জোর এক মুহূর্তের শূন্য দৃষ্টি ছাড়া আর কিছুই পাবেন না।
কেন রবীন্দ্রনাথজার্মানি কিংবা ইউরোপে যেমন গ্যেটে, বাংলাদেশ বা ভারতীয় জীবনে তেমনি রবীন্দ্রনাথ বার বার প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠেন; বহু বিষয়ে, বহু কারণে। গ্যেটের প্রাসঙ্গিকতা আধুনিক ইউরোপীয় জীবনের নানা স্তরে বিদ্যমান; সাহিত্যিক, দার্শনিক, সাংস্কৃতিক ও বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্র ছাড়াও আধুনিক মানুষের আত্মিক পরিচয়, জীবনাকাঙ্ক্ষা, স্বাধ
জাতীয় সাহিত্য থেকে বিশ্বসাহিত্য, রবীন্দ্রনাথ যেভাবে পেরিয়ে যান সাহিত্যের সীমানারবীন্দ্রনাথ যখন বাংলা সাহিত্যকে ‘জাতীয় সাহিত্য’ হিসেবে দেখার চেষ্টা করছেন, তখন বাংলা গদ্যসাহিত্যের যাত্রাই-বা কতদিন! তাঁর ভাষায় বলতে গেলে বলতে হয়, প্রায় একশত বছরের বাংলা সাহিত্য তখন ‘নববঙ্গসাহিত্য’! তখনও বিখ্যাত তাত্ত্বিক রেনে ওয়েলেক আর অস্টিন ওয়ারেন তাঁদের জাতীয় সাহিত্য পৃথকীকরণ নিয়ে ধারণাই দেননি।
তরুণদের রবীন্দ্রনাথ: পড়ার মানুষ, না গানের?আজকের প্রজন্মের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের সম্পর্কটাও বেশ অদ্ভুত। তিনি একইসঙ্গে জনপ্রিয়, তবে এর গভীরতা কম। খুব তাঁর উপস্থিতি দৃশ্যমান, তবে তাঁকে চেনার মাধ্যমে নয়। আনুষ্ঠানিকভাবে রবীন্দ্রসঙ্গীত শোনেন বা শিখেন অথবা নিজ আগ্রহে তাঁর বই পড়েন, এই প্রজন্মে এই সংখ্যা খুবই কম।
বাংলাদেশের সিনেমায় রবীন্দ্রনাথ কেন অধরাপুরো আশির দশকজুড়ে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে আরবীয় আখ্যান ও লোককাহিনির পাশাপাশি শরৎ সাহিত্য থেকে চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রেক্ষাপট লক্ষ করা যায়। কিন্তু রবীন্দ্রসাহিত্য নেই! তবে বাংলাদেশের শিল্পকলার অন্যান্য অঙ্গন যেমন থিয়েটার, সংগীত কিংবা নৃত্যে কিন্তু ঠিকই রবীন্দ্রনাথ প্রভাবের সঙ্গে বিরাজ করে। এর কারণ কী?
সুন্দরবনে রবীন্দ্রনাথ: হ্যামিলটনের সমবায়ের খোঁজে কবির যাত্রারবীন্দ্রনাথকে আমরা যতটা কবি হিসেবে চিনি, ততটা হয়তো চিনি না কৃষি, গ্রাম ও সমবায় নিয়ে ভাবুক একজন মানুষ হিসেবে। সাহিত্য, সংগীত, শিক্ষা কিংবা শিল্পচিন্তার বাইরে তিনি বারবার ফিরে গেছেন গ্রামের কাছে। কারণ, খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন বাংলার গ্রামীণ জীবনের দারিদ্র্য, রোগব্যাধি, সামাজিক ভাঙন আর অসহায়তা।
শিক্ষার মুক্তি, মানুষের মুক্তি: রবীন্দ্রনাথের শিক্ষাদর্শের সমকালীন পাঠএজন্য রবীন্দ্রনাথকে আজও আমাদের দরকার। তিনি আমাদের অতীতে ফিরিয়ে নেন না, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি গভীরভাবে ভাবতে বাধ্য করেন। তাঁর শিক্ষাদর্শ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, মানুষ তৈরি করা ছাড়া শিক্ষার কোনো বড় লক্ষ্য নেই। আর মানুষ তৈরি মানে তাকে ছাঁচে ঢালা নয়, তাকে মুক্ত করা।
রবীন্দ্রবিরোধিতার তিন কালরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের একজন। তাঁর সাহিত্য, গান ও চিন্তা উপমহাদেশের রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসেও গভীর প্রভাব ফেলেছে। এত বিশাল প্রভাবের কারণেই জীবদ্দশা থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত তাঁকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা বিতর্ক, সমালোচনা ও বিরোধিতা।
জন্মদিনে স্মরণ‘একাত্তরের দিনগুলি’ ছাড়াও জাহানারা ইমামের যে লেখাগুলো পড়া জরুরিশহীদ জননী জাহানারা ইমামের নাম বললেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে এক লড়াকু মায়ের ছবি। যিনি সন্তান ও স্বামীকে হারিয়েও হার মানেননি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে আমৃত্যু লড়াই করেছেন।
সত্যজিতের হিউমারাস্ত্রগতকাল ছিল পয়লা মে, মেহনতের দিন। আজ ২ মে, মগজ-বুদ্ধি আর হাসির রাজা ‘জয় বাবা মানিকনাথ’-এর জন্মদিন। ‘মানিক’ মানে সত্যজিৎ রায়ের ডাক নাম। এই মানুষটা (মানে সত্যজিৎ রায়) আমাদের নিয়ে কত সুন্দর করে মজা করে গেছেন!
ফেলুদার চরণচিহ্ন ধরে: রহস্যে ভরা গোয়েন্দা ভ্রমণের দিনলিপিআমি বড় হয়েছি প্রায় এক ধরনের নিঃসঙ্গতার ভেতর দিয়ে। যখন আমার সমবয়সীরা বাইরে খেলাধুলা করেছে, হাসি-আনন্দে কোলাহলে স্মৃতি গড়ে তুলছিল, তখন আমার জগৎ ছিল অন্যরকম নিরিবিলি, নীরব। আমার শৈশবের সেই সময়গুলো গড়ে উঠেছিল হলদে হয়ে আসা বইয়ের পাতায়, মৃদু স্বরে ভেসে আসা চিন্তার স্রোতে, আর এক টুকরো নরম আলোয় ঘেরা পড়ার মু
সত্যজিৎ কেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথা বলেননিবাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে সত্যজিৎ রায় অস্বাভাবিক ‘নীরব’ ছিলেন। তাঁর কোনো কথায় কিংবা কাজে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বিশেষ স্থান পায়নি। এই নীরবতা কৌতূহলোদ্দীপক। ফলে তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা আছে। যেমন একবার দেশের একটি দৈনিকে কবি দাউদ হায়দার লেখেন:
জন্মদিনে শ্রদ্ধাভ্রমণপ্রিয় সত্যজিৎ: অভিজ্ঞতাই যাঁর গল্পসত্যজিৎ রায়ের সৃষ্টিজগত নিয়ে কথা বলতে গেলে আমরা সাধারণত তাঁর সিনেমার ভাষা, মানবিকতা বা গল্প বলার দক্ষতার কথাই আগে বলি। কিন্তু তাঁর কাজকে ভেতর থেকে বুঝতে চাইলে যে দিকটি আলাদা করে সামনে আসে, তা হলো—ভ্রমণ। তিনি ছিলেন এক গভীর কৌতূহলী, পর্যবেক্ষণকারী ও ভ্রমণকারী। সেই ভ্রমণ তাঁর গল্প, চরিত্র ও সিনেমার গঠন